আর্জেন্টিনার ম্যাচে কেন ইংলিশ রেফারি থাকেন না

বিশ্বকাপের শেষ ধাপে রেফারি বাছাই শুধু অভিজ্ঞতা বা পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না। সেখানে জাতীয়তা, সংশ্লিষ্ট দল এবং কখনো কখনো রাজনৈতিক সংবেদনশীলতাও বিবেচনায় আসে। এই কারণেই ইংল্যান্ডের দুই শীর্ষ রেফারি মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলরের সামনে বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার পথ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
দুজনই ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞ এবং বড় ম্যাচ পরিচালনায় পরিচিত। তবে ইংল্যান্ড টুর্নামেন্টের শেষ ধাপে টিকে থাকলে তাঁদের সম্ভাবনা নেই। কারণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কোনো দেশের রেফারিকে সাধারণত সেই দেশের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হয় না। তাই ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলে ইংলিশ রেফারিরা সেই ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাবেন না।
বাধা শুধু ইংল্যান্ডকে ঘিরেই নয়। আর্জেন্টিনা টিকে থাকলেও অলিভার বা টেলরের ফাইনাল পরিচালনার সম্ভাবনা নেই বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। এর পেছনে আছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধ, যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস যুদ্ধ নামে পরিচিত। যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের সেই যুদ্ধে ৬৪৯ আর্জেন্টাইন, ২৫৫ ব্রিটিশ এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের তিন বাসিন্দা নিহত হন।
যুদ্ধ শেষ হয় আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে। দ্বীপগুলো ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে আর্জেন্টিনায় মালভিনাস প্রশ্ন এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যু। আর্জেন্টিনা এখনও দ্বীপগুলোর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে।
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণেই আর্জেন্টিনার ম্যাচে ইংলিশ রেফারি নিয়োগ এড়ানো হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো অপ্রয়োজনীয় অস্বস্তি, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ম্যাচ-পরবর্তী চাপ এড়ানো। তবে এটিকে ফিফার প্রকাশ্য ঘোষিত লিখিত নিষেধাজ্ঞা হিসেবে না দেখে রেফারি বাছাইয়ের সংবেদনশীল বিবেচনা হিসেবে দেখাই বেশি নিরাপদ।
উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল দেশের ম্যাচেও রেফারি নিয়োগে সতর্কতা রাখা হয়। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে সংশ্লিষ্ট দেশের রেফারি বা ঐতিহাসিকভাবে সংঘাতে জড়িত দেশের কর্মকর্তা নিয়োগ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়, যাতে ম্যাচের পর বিতর্কের জায়গা কম থাকে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও অ্যান্থনি টেলর ফাইনাল পরিচালনার দৌড়ে ছিলেন বলে আলোচনা ছিল। কিন্তু ফাইনালে আর্জেন্টিনা ওঠায় তার সম্ভাবনা কমে যায় বলে তখন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনাল পরিচালনা করেন পোল্যান্ডের সিমন মারচিনিয়াক।
এবারও পরিস্থিতি কিছুটা একই রকম হতে পারে। ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে খেলবে, আর আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের। দুই দলই টিকে থাকলে তারা সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইংলিশ রেফারিরা সেই ম্যাচের বাইরে থাকবেন, এটি নিয়মগতভাবেই স্বাভাবিক।
আর যদি আর্জেন্টিনা ফাইনালে যায়, ইংলিশ রেফারিদের ফাইনাল পরিচালনার সম্ভাবনাও কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বিশ্বকাপের মাঠে খেলোয়াড়দের মতো রেফারিদের ভাগ্যও অনেক সময় নির্ধারিত হয় ব্র্যাকেট, জাতীয়তা এবং ইতিহাসের জটিল সমীকরণে।




