নাক মাটিতে না লাগিয়ে কপালের ওপর সেজদা করলে নামাজ হবে?

ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। কোরআনে নামাজের সুস্পষ্ট আদেশ করা হয়েছে এবং বারবার বিভিন্নভাবে করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৩)
আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর নিশ্চয় তা বিনয়ীরা ছাড়া অন্যদের ওপর কঠিন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৫)
কেয়ামতের দিন সবার আগে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার কাজগুলোর মধ্যে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করা হয়ে থাকে, তবে সে নাজাত পাবে এবং সফলকাম হবে। যদি নামাজ নষ্ট হয়ে থাকে, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (নাসায়ি)
নামাজের গুরুত্বপূর্ণ রুকন সেজদা। নামাজে রুকুর পর সেজদায় যেতে হয়। প্রতি রাকাত নামাজে দুটি সেজদা করতে হয়। দিন-রাতের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে বহু সেজদা রয়েছে। নামাজের সময় উপুড় হয়ে দুই হাঁটু, কপাল ও নাক মাটিতে ঠেকিয়ে নিবেদন করা হলো সেজদা। সেজদার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্যের সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটে। তাই নিয়ম মেনে সেজদা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যখন সেজদায় থাকে, তখন সে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হয়। অতএব তখন বেশি বেশি দোয়া করতে থাকো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২)
অনেককে দেখা যায়, নামাজ আদায়ের সময় নাক মাটিতে না লাগিয়ে শুধু কপাল লাগিয়ে সেজদা করেন। প্রশ্ন হলো, মাটিতে নাক না লাগিয়ে শুধু কপালের ওপর সেজদা করলে কি সেজদা আদায় হবে?
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, জমিনে নাক না লাগিয়ে শুধু কপালের ওপর সিজদা করলে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। তবে কারণ ছাড়া নাক না লাগিয়ে শুধু কপাল দিয়ে সেজদা করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। কপালের সঙ্গে নাকও মাটিতে লাগিয়ে রাখা সুন্নত। আবু হুমাইদ (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.) যখন সেজদা করতেন, তখন নাক ও কপাল মাটির ওপর রাখতেন এবং উভয় পার্শ্বদেশ থেকে দুই হাত পৃথক করে রাখতেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৭০)
ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সেজদা করার নির্দেশ করা হয়েছে। কপাল, (তিনি হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশারা করে নাককেও এর অন্তর্ভুক্ত করেন), উভয় হাত, উভয় হাঁটু এবং উভয় পায়ের প্রান্ত।’ (সহিহ বুখারি, মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৮৮৭)
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘জমিনে নাক না লাগিয়ে শুধু কপালের ওপর সেজদা করলে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। তবে প্রয়োজন ছাড়া নাক না লাগিয়ে শুধু কপাল দিয়ে সেজদা করা মাকরুহ। তাই এ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। সেজদা আদায়ের সময় কপালের সঙ্গে নাকও মাটিতে লাগিয়ে রাখা সুন্নত। (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৯২; আলমুহিতুল বুরহানি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৮৩)




