গলাসমান পানি পেরিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নিলেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
গলাসমান পানি পেরিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নিলেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গলাসমান পানির মধ্যে স্ট্রেচারে কাঁধে করে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাঝরাতে প্রসব বেদনা ওঠে এক নারীর। বাড়ির চারপাশে তখন থই থই পানি। শেষে উপায় না দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে গলাসমান পানির মধ্যে স্ট্রেচারে কাঁধে করে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই নারী একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ ইউনিয়নের খৈয়ারকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে ডলু নদের তীরবর্তী খৈয়ারকুল গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী মিজবাহুল জান্নাতের প্রসব বেদনা শুরু হয়। বাড়ি থেকে উপজেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার হলেও পাহাড়ি ঢলে পুরো সড়ক ডুবে থাকায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছিল না। কয়েক ঘণ্টা যন্ত্রণায় কাটানোর পর ভোরের দিকে কোনো উপায় না দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয় পরিবার।

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্টেশন থেকে ওই নারীর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব প্রায় ৬০০ মিটার এবং পুরো পথই ছিল পানির নিচে। আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় ওই নারীকে স্ট্রেচারে করে কাঁধে বহন করে নিরাপদে নিয়ে আসি এবং আগে থেকে প্রস্তুত রাখা অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পাঠাই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার বন্যা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ডলু, সাঙ্গু ও টঙ্কাবতী নদীর পানি উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত রাত থেকে দুই উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে এবং গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী আজ দুপুর ১২টায় সাতকানিয়া অংশে সাঙ্গু নদের পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডলু ও টঙ্কাবতী নদীর পানিও আগে থেকেই বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

পাউবোর চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।