বাবাকে জীবন্ত মাটিচাপা দিতে ঘরে কবর খোঁড়ার অভিযোগ

ঘরের দরজা বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকত। বড় ছেলে একাই ভেতরে ঢুকত, আবার কিছুক্ষণ পর বালতিভর্তি মাটি নিয়ে বেরিয়ে আসত। কয়েক দিন ধরে বিষয়টি লক্ষ্য করছিলেন শয্যাশায়ী আব্দুস সালাম। কোমর থেকে নিচের অংশ অবশ হওয়ায় নিজে গিয়ে দেখার উপায় ছিল না। সন্দেহ বাড়তে থাকলে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে পাশ দিয়ে যাওয়া এক স্বজনকে ডেকে তিনি অনুরোধ করেন, একবার ঘরটা খুলে দেখো।
দরজা খুলতেই সামনে আসে বিস্ময়কর এক দৃশ্য। ঘরের এক কোণে প্রায় পাঁচ ফুট প্রস্থ ও সাত ফুট গভীর একটি গর্ত। চারদিকে মাটিভর্তি কয়েকটি বস্তা, পাশের ঘরে কাদামাটির স্তূপ। দৃশ্যটি দেখে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত লোকজন। আর তখনই কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুস সালামের অভিযোগ, তাকে জীবন্ত মাটিচাপা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যেই গর্তটি খোঁড়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বানিয়াচাপড় গ্রামে গত বুধবার থেকে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে গ্রামবাসী তার বড় ছেলে মোস্তাকিমকে আটক করলেও তার মা ও বড় বোন থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানিয়ে তাকে নিয়ে চলে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াচাপড় গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম (৪৮) পাঁচ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কোমর থেকে নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন বড় মেয়ে সুরাইয়া আক্তার। এমএ পাস করেও জীবিকার তাগিদে তিনি মা ও অন্য ভাই-বোনকে নিয়ে পাশের বগুড়ার দুপচাঁচিয়া শহরে ফুচকা বিক্রি করেন। বাড়িতে অসহায় বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল বড় ছেলে মোস্তাকিমের ওপর।
আব্দুস সালামের অভিযোগ, প্রথমদিকে ছেলে তার যত্ন নিলেও পরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই নেশার টাকার জন্য প্রায়ই মারধর, গালিগালাজ এবং হত্যার হুমকি দিতে শুরু করে। কয়েক দিন ধরে ছেলের অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখে তার মনে সন্দেহের জন্ম হয়।
একই গ্রামের রাজু আহমেদ বলেন, চাচার ডাকে ঘরের দরজা খুলে দেখি বিশাল একটি গর্ত। পাশে মাটিভর্তি বস্তা ও কাদামাটি ছিল। বিষয়টি দেখে আমরা হতবাক হয়ে যাই। পরে গ্রামবাসী এসে মোস্তাকিমকে আটক করে।
বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাকিমের বড় বোন সুরাইয়া বেগম। তিনি বলেন, আমার ভাই মাদকাসক্ত। কিন্তু বাবাকে হত্যার জন্য গর্ত খুঁড়েছে—এ অভিযোগ ঠিক নয়। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
আব্দুস সালাম বলেন, আমি এখন নিজের জীবন নিয়েই শঙ্কিত। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের চিকিৎসার জন্য সম্পদ বিক্রি করিনি। অথচ আজ আমি নিজের ঘরেই নিরাপদ নই। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মুহাম্মদ আব্দুল করিম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




