মেসি কেন দৌড়ান কম, উত্তর দিলেন নিজেই

বর্তমানে আধুনিক ফুটবলে গতি, দৌড় আর শারীরিক সামর্থ্যের গুরুত্ব বেড়েই চলেছে। সেই ফুটবলের সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ৩৯ বছর বয়সি লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক দৌড়াচ্ছেন সবচেয়ে কম, হাঁটছেন সবচেয়ে বেশি। অথচ গোল, সুযোগ তৈরি ও সামগ্রিক প্রভাবের হিসাবে তিনিই প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়।
ফিফাফাইয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ খেলে মেসি মোট ৩৫ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন। প্রতি ৯০ মিনিটের কার্যক্রমভিত্তিক হিসাবে তার গড় দূরত্ব ৬ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটারই তিনি কাটিয়েছেন হেঁটে!
মেসির গড় জগিং দূরত্ব ১ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার। দ্রুতগতিতে দৌড়েছেন প্রায় ৬৩১ মিটার। প্রতি ম্যাচে তার স্প্রিন্টের সংখ্যাও মাত্র ২৩টির কাছাকাছি। মিশরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর শেষ ষোলোর ম্যাচে তিনি অতিক্রম করেন ৮ দশমিক ২৮ কিলোমিটার। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সংখ্যাটি ছিল ৭ দশমিক ৯০ কিলোমিটার।
একজন মাঠের খেলোয়াড়ের জন্য সংখ্যাগুলো বেশ কম। কিন্তু বল পায়ে নেওয়ার পর মেসির প্রভাব ঠিক উল্টো। বিশ্বকাপে তার পরিসংখ্যানগত গড় মূল্যায়ন ৮ দশমিক ৭, যা এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ।
পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার মোট গোল এখন রেকর্ড ২১টি। চলতি আসরে বক্সের বাইরে ও সরাসরি ফ্রি কিক থেকে সবচেয়ে বেশি গোলও এসেছে তার পা থেকে।
মেসি অবশ্য জানেন, তাকে এই স্বাধীনতা দিতে সতীর্থদের কতটা পরিশ্রম করতে হচ্ছে। মিশরকে হারানোর পর তিনি বলেছিলেন, ‘সতীর্থরা আমার জন্য বাড়তি ত্যাগ করে। আমি কম দৌড়ানোর সময় তারা নিজেদের শেষটুকুও দিয়ে চেষ্টা করে।’
আর্জেন্টিনার খেলার পরিকল্পনাতেও বিষয়টি পরিষ্কার। প্রতিপক্ষের পায়ে বল থাকার সময় মেসিকে নিয়মিত চাপ প্রয়োগে যেতে হয় না। সেই দায়িত্ব ভাগ করে নেন অন্যরা। মেসি তখন হেঁটে হেঁটে প্রতিপক্ষের অবস্থান, ফাঁকা জায়গা এবং পরবর্তী আক্রমণের পথ খুঁজে নেন। সুযোগ এলেই ছোট একটি দৌড় বা একটি পাসে বদলে দেন ম্যাচের গল্প।
তাই মেসির হাঁটা নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং শক্তি জমিয়ে রাখার কৌশল। বাকিরা যেখানে পুরো ম্যাচ দৌড়ে পার্থক্য গড়ার চেষ্টা করেন, সেখানে তার প্রয়োজন কখনো কয়েক সেকেন্ড, কখনো মাত্র একবার বল পায়ে নেওয়া।





