গোমতীর পানি বাড়ছে, ফসল তলিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুমিল্লা
গোমতীর পানি বাড়ছে, ফসল তলিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা
ছবি: এশিয়া পোস্ট

টানা কয়েকদিনের বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের নিচু জমিতে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে মৌসুমি ফসল।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে গোমতী নদীর পানি ৮ দশমিক ৪২ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। নদীর বিপৎসীমা ১১ দশমিক ০৩ মিটার। তাই পানি এখনও বিপৎসীমার প্রায় ২ দশমিক ৮৮ মিটার নিচে অবস্থান করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলার চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সীমান্তবর্তী আদর্শ সদর উপজেলার কয়েকটি চর ইতিমধ্যে আংশিক তলিয়ে গেছে। এতে সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক পরিপক্ব হওয়ার আগেই ফসল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতীর বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। ওই বন্যায় জেলার শত শত গ্রাম প্লাবিত হয়, হাজার হাজার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই স্মৃতি এখনো নদীতীরবর্তী মানুষের মনে আতঙ্ক হয়ে রয়েছে।

গোমতী নদীর গোলাবাড়ি এলাকার আমির হোসেন বলেন, গোমতী চরে লাউয়ের চারা রোপণের পর এখন চারাগুলো বড় হয়ে ফলন ধরছে। কিন্তু এমন সময় পানি বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে আছি। ২০২৪ সালের মতো যদি আরেকটি বন্যা হয়, তাহলে পরিবার নিয়ে বাড়িতে বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, গোমতী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিস রোজী আক্তার বলেন, গোমতীর পানি কিছুটা কমেছে। এখনো বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানিসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে কেউ বিচলিত না হয়ে সতর্ক থাকুন।

বিষয় :কুমিল্লা