পর্তুগালের দায়িত্ব নিয়েই নেইমারের গল্প শোনালেন নতুন কোচ

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
পর্তুগালের দায়িত্ব নিয়েই নেইমারের গল্প শোনালেন নতুন কোচ
পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জে জেসুস। ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালের নতুন কোচ হিসেবে পরিচয়পর্বেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন জর্জ জেসুস। উত্তরে কূটনৈতিক পথে হাঁটলেন না ৭১ বছর বয়সী কোচ। বরং নেইমারের সঙ্গে আল হিলালে ঘটে যাওয়া একটি কথোপকথনের গল্প শুনিয়ে পরিষ্কার করে দিলেন, দলের প্রয়োজনে বড় তারকার বিরুদ্ধেও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন না তিনি।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর পর্তুগালের দায়িত্ব ছাড়েন রবার্তো মার্তিনেজ। তার উত্তরসূরি হিসেবে শুক্রবার জেসুসকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন।

পরিচিতি অনুষ্ঠানে রোনালদোর সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন হবে জানতে চাওয়া হয়। জবাব দিতে গিয়ে জেসুস বলেন, ‘বিশ্বের সেরা তিন খেলোয়াড়ের মধ্যে দুজনকে আমি কোচিং করিয়েছি। শুধু মেসিই বাকি। নেইমার ও রোনালদোর সঙ্গে কাজ করেছি।’

এরপরই নেইমারের সঙ্গে নিজের পুরোনো কথোপকথনের প্রসঙ্গ তোলেন পর্তুগিজ কোচ, ‘একদিন নেইমারকে বলেছিলাম, তুমি শেষ। দলের জন্য যেটা ভালো মনে করব, সেটিই করা হবে।’

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আল হিলালে একসঙ্গে ছিলেন জেসুস ও নেইমার। চোটের কারণে সৌদি ক্লাবটির হয়ে নিয়মিত খেলতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা। ২০২৫ সালের শুরুতে বিদেশি খেলোয়াড়ের সীমার কারণে নেইমারকে সৌদি প্রো লিগের জন্য নিবন্ধন না করার সিদ্ধান্ত নেন জেসুস।

এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগে তাকে ব্যবহার করার কথা বললেও সেই ভূমিকায় সন্তুষ্ট ছিলেন না নেইমার। পরে চুক্তি শেষ করে সান্তোসে ফিরে যান তিনি। জেসুস তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলায় কষ্ট পাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

নেইমারের সেই উদাহরণ দিয়ে জেসুস মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, পর্তুগালেও কোনো খেলোয়াড় নাম বা অতীতের অর্জনের কারণে বিশেষ সুবিধা পাবেন না। সেই নীতি রোনালদোর ক্ষেত্রেও বদলাবে না।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর রোনালদো জানিয়েছেন, এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তবে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেননি পর্তুগালের অধিনায়ক। নতুন কোচও তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ধরে নিতে রাজি নন।

জেসুস বলেন, ‘এখনো ক্রিসের সঙ্গে কথা হয়নি। সে কখনোই জাতীয় দল কিংবা আমার জন্য সমস্যা হবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার সঙ্গে কথা বলব। শুধু তার সঙ্গেই নয়, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলব।’

রোনালদোকে পর্তুগালের ফুটবলের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করলেও তাকে সব ম্যাচে খেলানোর নিশ্চয়তা দেননি জেসুস। তার মতে, অন্যদের মতো দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীকেও।

‘সে যদি খেলতে থাকে, খেলার মতো অবস্থায় থাকে এবং জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার যোগ্য হয়, তাহলে তাকে ডাকব। তবে দলের জন্য যে সীমা ও শর্ত সবচেয়ে ভালো মনে করব, তার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ক্লাব ফুটবলে রোনালদোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন জেসুস। আল নাসরের ৫০ ম্যাচের মৌসুমে রোনালদো খেলেছিলেন ৩১টি ম্যাচ। লিগে তাকে ১৬ বার তুলে নিয়েছিলেন কোচ।

জেসুস বলেন, ‘তার সঙ্গে কাজ করা খুবই সহজ। খেলোয়াড় হিসেবে সে কী এবং কোচ হিসেবে আমার দায়িত্ব কী, আমরা কখনো দুটিকে গুলিয়ে ফেলিনি।’

নতুন কোচের অধীনেও পর্তুগালের পাঁচ অধিনায়কের একজন থাকছেন রোনালদো। অন্য চারজন বার্নার্দো সিলভা, ব্রুনো ফার্নান্দেস, রুবেন দিয়াস ও দিয়োগো কস্তা। তবে অধিনায়কদের ক্রম এখনো ঠিক করেননি জেসুস।

বয়স নয়, পারফরম্যান্সই দল নির্বাচনের প্রধান মানদণ্ড হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই নীতি তরুণ রদ্রিগো মোরা ও জিওভানি কুয়েন্দার পাশাপাশি রোনালদোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

পর্তুগালের খেলায় বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন নতুন কোচ, ‘আমার খেলার ধারণার সঙ্গে আগের জাতীয় দলের ধারণার কোনো মিল নেই। আমরা একটি পরিচয় তৈরি করব। খেলোয়াড়দের বুঝতে হবে, জিততে চাইলে মূল্য দিতে হবে।’

নেইমারের গল্প শুনিয়ে জেসুস শুরুতেই সেই বার্তাটিই দিলেন। তার পর্তুগালে তারকার মর্যাদা থাকবে, কিন্তু সেটি কাউকে কোচের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাবে না।