আনচেলত্তির পদত্যাগ চান ব্রাজিল কিংবদন্তি

নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ব্রাজিলে সমালোচনার ঝড় থামছেই না। এবার সেই ঝড়ে আরও আগুন ঢাললেন রোমারিও। ব্রাজিলের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী স্ট্রাইকার সরাসরি কার্লো আনচেলত্তির পদত্যাগ দাবি করেছেন।
রোমারিও টিভিতে দেওয়া বক্তব্যে আনচেলত্তির ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন রোমারিও। তার মতে, নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল লজ্জাজনক এবং এই ব্যর্থতার পর ইতালিয়ান কোচের দায়িত্বে থাকা উচিত নয়।
রোমারিও বলেন, আনচেলত্তি কোনোভাবেই ব্রাজিলের কোচ হিসেবে থাকতে পারেন না। তিনি যদি ফেডারেশনের দায়িত্বে থাকতেন, ড্রেসিংরুমে গিয়ে তখনই আনচেলত্তিকে বিদায় করে দিতেন এবং চুক্তি শেষ করে দিতেন। তার ভাষায়, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল লজ্জার।
শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন বিদায় দেশজুড়ে হতাশা তৈরি করেছে। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলের পর শেষ দিকে নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করলেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি সেলেসাও।
রোমারিওর ক্ষোভ শুধু একটি ম্যাচ ঘিরে নয়। কয়েক দিন ধরেই তিনি ব্রাজিল জাতীয় দল, পরিকল্পনা এবং ফুটবল কাঠামো নিয়ে সমালোচনা করছেন। এবার তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রে আনচেলত্তি। সাবেক বার্সেলোনা তারকার মতে, ব্রাজিল যদি সত্যিই বদল আনতে চায়, তাহলে পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না।
তিনি টিটের উদাহরণও টেনে আনেন। ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরও টিটে ২০২২ পর্যন্ত ব্রাজিলের দায়িত্বে ছিলেন। রোমারিওর ইঙ্গিত, ব্যর্থতার পর দীর্ঘ সময় ধরে একই মডেল চালিয়ে গেলে ব্রাজিলের উন্নতি হবে না।
আনচেলত্তির কিছু সিদ্ধান্তও বুঝতে পারেননি রোমারিও। বিশেষ করে নরওয়ে ম্যাচে ব্রুনো গিমারায়েসকে তুলে এদেরসনকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। রোমারিওর মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তই দেখিয়েছে, ব্রাজিলের বেঞ্চে আরও বড় পরিবর্তন দরকার।
তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের অবস্থান আপাতত ভিন্ন। সিবিএফ আনচেলত্তির ওপর আস্থা রাখছে। জাতীয় দল সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আনচেলত্তির সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। আনচেলত্তিও হারের পর বলেছেন, ব্যথা বড় হলেও তারা যা গড়ছেন, সেটির ওপর তার বিশ্বাস বদলায়নি।
ব্রাজিলের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর তারা স্থিতিশীলতা বেছে নেবে, নাকি আবারও কোচ বদলের পথে হাঁটবে। সিবিএফ আপাতত আনচেলত্তির পাশে থাকলেও রোমারিওর মতো বড় নাম প্রকাশ্যে সরানোর দাবি তোলায় চাপ যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট।
সূত্র: AS, ESPN





