টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

জেতার মতো অবস্থান তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত পারল না বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের কাছে ১৩ রানে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ খুইয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এর ফলে টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের ২৪৭ রানের জবাবে বাংলাদেশ থেমে যায় ৪৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে। ৪২ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ৬ উইকেটে ২০৭। তখন জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪১ রান, হাতে ৪ উইকেট। কিন্তু শেষের ব্যাটিং ধসে সেই সমীকরণও মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ।

রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি। সৌম্য সরকার ৫ রান করে ফিরলে ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। কিছুক্ষণ পর নাজমুল হোসেন শান্তও ৯ রানে আউট হন। তবে তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহিদ হৃদয় তৃতীয় উইকেটে ৮৪ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরান বাংলাদেশকে।

তানজিদ ৭০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৫৭ রান। তার বিদায়ের পরও হৃদয় ছিলেন। ধীরগতিতে হলেও এক প্রান্ত ধরে রাখেন তিনি। ৯০ বলে ৫ চারে ৬০ রান করে হৃদয় ফেরার পরও ম্যাচ বাংলাদেশের হাতের নাগালেই ছিল।

নুরুল হাসান দ্রুত রান তুলে আশা বাড়ান। ৪১ বলে ৫ চারে ৩৮ রান করে তিনি যখন আউট হন, বাংলাদেশ ৪২ ওভার শেষে ২০৭। এরপরই ম্যাচ ঘুরে যায় জিম্বাবুয়ের দিকে। মোসাদ্দেক হোসেন ৭, রিশাদ হোসেন ৮, তাসকিন আহমেদ শূন্য ও শরিফুল ইসলাম ৬ রানে ফিরলে চাপ বাড়তে থাকে। শেষ ব্যাটার হিসেবে মিরাজ ২৭ রান করে আউট হতেই ২৩৪ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

জিম্বাবুয়ের পক্ষে অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা ৩ উইকেট নেন। ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স নেন ২টি করে উইকেট। বল হাতে নিয়ন্ত্রিত ছিলেন মুজারাবানি, ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৩৩ রান দেন তিনি।

এর আগে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের জোড়া আঘাতে ৮ রানে ২ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। পরে ৬৬ রানে ৪ উইকেট পড়ে গেলে স্বাগতিকদের বড় স্কোরের সম্ভাবনা কমে যায়।

কিন্তু এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে যান বেন কারান। সিকান্দার রাজা ৩৩ রান করে তাকে সঙ্গ দেন। পরে ব্র্যাড ইভান্সের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রানের জুটিতে জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন কারান। ১৩৫ বলে ৯ চারে অপরাজিত ১১১ রান করেন তিনি। ইভান্স ৩৮ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় অপরাজিত ৫৮ রান করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন ও মিরাজ ২টি করে উইকেট নেন। নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন নেন ১টি করে উইকেট।

প্রথম ওয়ানডেতেও হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৩ রানের হারে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে। শেষ ম্যাচ এখন বাংলাদেশের জন্য শুধুই হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই।