ম্যাচ হারলেই মারামারিতে জড়ান মিশরের কোচ, হয়েছেন গ্রেপ্তারও

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ম্যাচ হারলেই মারামারিতে জড়ান মিশরের কোচ, হয়েছেন গ্রেপ্তারও
আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচ চলাকালীন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। (ডানে) নাইজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচের সময় মারামারির দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে নকআউট পর্ব শেষ ষোলোতে হারের পর রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগের আঙুল তুলেছে মিশর। অনেক নাটকীয়তার পর সেই ম্যাচে ৩-২ গোলে হেরে যায় মিশর। কিন্তু বিতর্ক ওঠা সেই ম্যাচে প্রতিবাদ করে আলোচনায় এসেছেন দলটির কোচ হোসাম হাসান। আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির দিকেও তেড়ে যান তিনি। তখন নিরাপত্তাকর্মী ও টিম স্টাফরা তাকে আটকান।

খেলার মাঠে মেজাজ হারিয়ে অতীতে বহুবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন। তাকে যেতে হয়েছে আদালত পর্যন্ত। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সঙ্গে হারের পর সে দৃশ্য আবারও সামনে আসে হোসাম হাসানের।

২০১৬ সালে মিশরীয় প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে সরকারি চিত্রগ্রাহককে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হাসানকে। পরে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয় আদালতে।

সে বছর জুলাইয়ে মিশরীয় প্রিমিয়ার লিগে তার কোচিংয়ে থাকা ক্লাব আল মাসরি ও গাজল আল মহল্লার ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরপরই পোর্ট সাঈদের ক্লাব আল মাসরির খেলোয়াড় ও প্রতিপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন হাসান। মিশরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত এক ফটোগ্রাফার মাঠের সেই সংঘর্ষের ছবি তুলছিলেন। ক্যামেরার লেন্স নিজের দিকে ঘোরাতেই চটে যান কোচ হাসান।

এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ক্ষিপ্ত হয়ে হাসান মাঠজুড়ে সেই ফটোগ্রাফারকে তাড়া করছেন। একপর্যায়ে তাকে ধরে মাথায় কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। শুধু তা-ই নয়, ফটোগ্রাফারের হাত থেকে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে মাঠের পাশেই আছাড় মেরে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।

ন্যক্কারজনক সেই ঘটনার পর ওই ফটোগ্রাফার তার বিরুদ্ধে ‘দায়িত্বরত অবস্থায় একজন সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর এবং সরকারি সম্পত্তি (ক্যামেরা) ভাঙচুরের’ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন।

মামলায় হাসানের সহকারী হাসান মুস্তাফা ও ক্লাবের প্রশাসনিক পরিচালক ওয়ালিদ বদরও একই অপরাধে ফেঁসে যান। প্রসিকিউটরের নির্দেশে এই তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় তখন।

এর আগে ২০০৮ সালে আল মাসরি ক্লাবের ম্যানেজার থাকাকালীন উত্তর আফ্রিকার ক্লাব কাপের একটি ম্যাচে আলজেরিয়ার দল জেএসএম বেজাইয়ার মুখোমুখি হয়েছিল তার দল। ম্যাচের শেষ দিকে রেফারির একটি সিদ্ধান্তে ক্ষিপ্ত হন হোসাম হাসান ও তার যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসান। তারা মাঠের ভেতরেই ফোর্থ অফিশিয়ালের টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং রেফারিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তাকে দীর্ঘ মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

মিশর জাতীয় দলের একসময়কার দুর্দান্ত স্ট্রাইকার আগেও এমনটাই ছিলেন। আল আহলি ও জামালেকের মতো মিশরের শীর্ষ দুই ক্লাবে খেলার সময়েও বারবার মেজাজ হারিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন হোসাম হাসান।

সেই ঘটনায় আইনি মারপ্যাঁচের পাশাপাশি ফুটবলীয় শাস্তির মুখে পড়েন হাসান। মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) তাকে পরবর্তী ৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে, সেই সঙ্গে ১০ হাজার মিশরীয় পাউন্ড জরিমানা করা হয়। মাঠের বিশৃঙ্খলার কারণে তার ক্লাব আল মাসরিকেও ২০ হাজার মিশরীয় পাউন্ড জরিমানা করা হয়।

মিশরের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব আল আহলি ও জামালেক উভয় দলের হয়েই খেলার সময় মাঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়, রেফারি ও লাইন্সম্যানদের সঙ্গে নিয়মিত মারামারিতে জড়াতেন তিনি। লাল কার্ড দেখা কিংবা মেজাজ হারিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে হাতাহাতি করা ছিল তার ক্যারিয়ারের নিয়মিত চিত্র।

সবশেষ কোচ হিসেবে মিশরকে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে নিয়ে গেলেও আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর চরম বিতর্কের জন্ম দেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি অভিযোগ করেন, ফিফা ও রেফারিরা টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই মিশরের বিরুদ্ধে 'কারচুপি' করেছে। তিনি রাগে ঘোষণা দেন, এই বিশ্বকাপে তিনি আর কোনো ম্যাচই দেখবেন না।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে গ্যালারির দর্শকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান হাসান। আলবিসেলেস্তেদের কোচ স্কালোনির দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় হলুদ কার্ডও দেখেন তিনি।