বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার পেল জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার পেল জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মানসুরুল হকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। ছবি: সংগৃহীত

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য বিষয়ে শিক্ষা এবং গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে এ বছর জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মানসুরুল হকের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।

‘জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পুরস্কার-২০২৬’ লাভ করায় জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগকে ২২ ক্যারেটের দুই ভরি ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এক লাখ টাকার চেক এবং সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অবদানকে এ পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এ বছর পাঁচ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেয়েছেন সংরক্ষণকর্মী ফয়সাল বীন আজাদ (আদনান আজাদ)।

প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছে নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম)। বন্যপ্রাণী বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যক্তি ক্যাটাগরিতে সম্মানিত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদা বেগম। এ ছাড়া বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী/ইউনিট/বিভাগ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট)।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের বন্যপ্রাণী রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।’

ইকোসিস্টেম রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে স্থানীয় ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে থাকা গাছ- যেগুলোকে আমরা ‘মাদার ট্রি’ বলি, সেগুলো যেন রক্ষা পায়, কেটে ফেলা না হয়, এই বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আজ এখানে বন বিভাগের বড় কর্মকর্তারা আছেন, আমি আশা করব, তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও যতটা সম্ভব কঠোর অবস্থান নিতে চেষ্টা করছি। বহুদিনের অভ্যাসের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা খুবই কষ্টসাধ্য একটি কাজ, এটি মানুষকে বুঝিয়ে করাতে হবে। তাই আমি বলেছিলাম, এই বিষয়টি সমাধান করতে প্রত্যেক মানুষকে যার যতটুকু সম্ভব, যেই পরিবেশে সম্ভব, সেভাবেই পশুপাখি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।

দেশের নদী বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি নদীগুলো বাঁচাতে না পারি, তাহলে আগামীতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই ইকোসিস্টেম রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠবে- এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।