জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা: ডা. জাহেদ

জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা—এমন মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে জুলাই স্মৃতিচারণামূলক ‘মননে জুলাই’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার আগে বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিতে হবে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং অসংখ্য মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষার ধারাবাহিক পরিণতি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সুষ্ঠু ও নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। বিরোধী রাজনৈতিক দল, মানবাধিকারকর্মী, গুমের শিকার পরিবারের আন্দোলন এবং সাধারণ মানুষের অব্যাহত প্রতিরোধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপও তৎকালীন শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে তোলে। বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়েও আন্দোলন থেমে থাকেনি; বরং এসব ঘটনার ধারাবাহিকতাই জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ও মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; এটি ছিল দল-মত নির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের যৌথ আন্দোলন। আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে জুলাইয়ের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর গল্প সংরক্ষণ ও মানুষের সামনে তুলে ধরতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। জুলাই কেবল একটি মাস নয়, বরং আত্মত্যাগ, বেদনা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নের প্রতীক।
মাদারীপুর-১ আসনের এমপি আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, জুলাই আন্দোলন দেশ ও দেশের মানচিত্র রক্ষার শিক্ষা দিয়েছে। ক্ষমতার লোভে নয়, দেশপ্রেম থেকেই তারা রাজনীতি করেন। বিগত সরকার রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে গুম-নির্যাতনের মাধ্যমে দেশকে জিম্মি করে রেখেছিল। নিজের ৩ মাস ১৭ দিন গুম থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি নিখোঁজ সহযোদ্ধাদের স্মরণ করেন এবং বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করেই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের এমপি আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ও মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও মাননীয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।




