ঢাকা কলেজে সিট দখল নিয়ে ছাত্রদল নেতাদের মারধর, তদন্তে প্রশাসন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঢাকা কলেজ

ঢাকা কলেজে সিট দখল নিয়ে ছাত্রদল নেতাদের মারধর, তদন্তে প্রশাসন
ঢাকা কলেজ। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা কলেজের দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাসে সিট দখলের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের মারধর ও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ানোর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ প্রশাসন।

বুধবার (৮ জুলাই) কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরশাদ হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ জুন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাসে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনার তদন্তে এ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্য, ভিডিও ক্লিপসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়াও বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় তলার কক্ষ নং–৩০ এ তদন্ত কমিটির কাছে শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ এবং সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাসের ৩০৩ নম্বর কক্ষে মোট আটটি সিট রয়েছে। এর মধ্যে সাতটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা অবস্থান করেন। অপর একটি সিট ঢাকা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম রেদোয়ানের নামে বরাদ্দ। ব্যক্তিগত কারণে তিনি বর্তমানে হলের বাইরে অবস্থান করায় দীর্ঘদিন ধরে সিটটি খালি রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশাররফের সমর্থনে ওই খালি সিটে কয়েক মাস পরপর বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে রাখা হয়। সর্বশেষ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলভী প্রায় তিন মাস ধরে ওই সিটে অবস্থান করছিলেন। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ হবে বলে জানিয়েছে কলেজ প্রশাসন।

এর আগে, গত ২৭ জুন দিবাগত রাতে ঢাকা কলেজের দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাসে একটি সিট দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধর, মব সৃষ্টি এবং রাতভর উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ।