পুরস্কৃত হলেন মিশরের কোচ হোসাম

সেই ১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল মিশর। বিশ্ব আসরে প্রথম আরব ও আফ্রিকান দেশ তারাই। কিন্তু বড় আসরে আগে তিনবার অংশ নিলেও একটি জয় অধরা ছিল মরুর দেশটির। ২০২৬ বিশ্বকাপে চতুর্থবার এসে নতুন ইতিহাস গড়ল মিশর।
জি গ্রুপে প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও, দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে নেয় তারা। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক শতাব্দী পর ইতিহাস গড়ে তারা। এবার শুধু প্রথম জয়ই নয়, ৩২ পর্বে জিতে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বেও উঠে যায় মিশর।
কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দারুণ লড়াই করেছিল আফ্রিকা মহাদেশের দলটি। যদিও বিতর্ক ওঠা ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও শেষে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
মিশরের এমন সাফল্যের পেছনে বড় অবদান দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসানের। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের চেহারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন তিনি। এবার সেটার পুরস্কার পেলেন হোসাম হাসান। নতুন করে তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।
বুধবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির ফেডারেশন।
বিবৃতিতে ইএফএ সভাপতি হ্যানি আবু রিদা জানান, ‘অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদ প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি সানন্দে অনুমোদন করেছে।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন চুক্তির আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফারাওদের ডাগআউটে দেখা যাবে মিশর জাতীয় দলের সাবেক এই স্ট্রাইকারকে। অবশ্য আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি ছাড়াই এবারের বিশ্বকাপে মিশরের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও বিশ্বকাপের আগে আর তার সঙ্গে নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়ায়নি ফেডারেশন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিশরের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের পারফরম্যান্সে আমূল পরিবর্তন এনেছেন ৫৯ বছর বয়সি এই কোচ। তার হাত ধরে দলটি ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সেমিফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করে।
কোচ সেই ছাপ রেখেছেন এবারের বিশ্বকাপেও। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তার দল। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের দারুণ জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয়। এরপর তৃতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ইরানের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা নেয় তারা। পরে সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে।
শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হোসাম হাসানের রণকৌশল ছিল দেখার মতো। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে তারা জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসিদের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় মিশর।
হোসাম হাসান খেলোয়াড়ি জীবনে ১৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৬৯টি গোল করেন। তিনি এখনও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আসন ধরে রেখেছেন। তার সেই অভিজ্ঞতা ও মাঠের পারফরম্যান্সকে সম্মান জানিয়েই তাকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ীভাবে রেখে দেয় ইজিপ্টিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।




