সড়কে বইছে প্রবল স্রোত, বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়ক দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার সংলগ্ন সত্যপীরের দরগা এলাকায় সড়কে এ ঘটনা ঘটেছে।
একই সময়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানীহাট এলাকার শীলঘাটা এবং দোহাজারী-কেরানীহাট সড়কের আরও কয়েকটি নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে শতাধিক বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকা পড়েছে।
বান্দরবানগামী যাত্রী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে রাস্তায় আটকা আছি। সড়কের ওপর দিয়ে এত তীব্র স্রোতে পানি যাচ্ছে যে কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। কখন রাস্তা চালু হবে, সেটাও কেউ বলতে পারছে না।
ট্রাকচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা মালামাল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। সামনে-পেছনে শুধু গাড়ির সারি। পানি কমার আগে এগোনোর কোনো উপায় নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, এত ভয়াবহ পানি অনেক বছর পর দেখছি। সড়ক নদীর মতো হয়ে গেছে। প্রশাসন যান চলাচল বন্ধ করে ঠিক কাজ করেছে, না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট, বাজালিয়া, খাগরিয়া, চরতি, ঢেমশা, কাঞ্চনা, এওচিয়া, কালিয়াইশ, পুরানগড়, সোনাকানিয়া, আমিলাইশ, মাদার্শা ও নলুয়া ইউনিয়ন এবং পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে।
বন্যার পানি সাতকানিয়া থানা কম্পাউন্ড, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া চৌকি আদালত এবং অধিকাংশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করায় সরকারি কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্যার পানি প্রবেশ করলেও সীমিত পরিসরে জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। সত্যপীরের দরগা এলাকায় মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের এক যুবদল কর্মী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, তিনি বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছেন। ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া এবং প্লাবিত সড়ক ও সেতু পারাপার থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে।





