দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনি থেকে ফের পাথর উত্তোলন শুরু

এক মাস ২২ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে পুরোদমে পাথর উত্তোলনের কাজ শুরু করা হয়।
এর আগে ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুরিয়ে যাওয়ায় গত ১৯ মে সকাল থেকে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি শেষে এক মাস ২২ দিন পর খনির উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু হলো।
পাথর উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমজাদ হোসেন।
তিনি জানান, বিস্ফোরক দ্রব্যের (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পাথর উত্তোলন কাজ সাময়িক বন্ধ ছিল। আজ সকাল থেকে পাথর উত্তোলন পুরোদমে শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৮৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরক দ্রব্য খনিতে পৌঁছেছে, যা দিয়ে আড়াই মাস পাথর উত্তোলন কাজ চলবে। মোট ৩০০ মেট্রিক টন বিস্ফোরক দ্রব্যের চাহিদা দেওয়া রয়েছে, বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে এসে পৌঁছাবে।
জানা গেছে, খনি কর্তৃপক্ষ সময়মতো বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় এর আগেও ২০২৫ ও ২০২২ সালে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। এরও আগে বিস্ফোরকের অভাবে প্রথমবার ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে ২ মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন খনির পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল।
২০০৭ সালের ২৫ মে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে তিন শিফটে পাথর তোলার কাজ করছেন প্রায় সাড়ে ৭০০ শ্রমিক। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) সঙ্গে ৬ বছরের পুনঃচুক্তি করে মধ্যপাড়া পাথর খনি কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।




