logo

‘আমাদের বেতন বাড়েনি কিন্তু যাতায়াত ভাড়া বেড়ে গেল’

‘আমাদের বেতন বাড়েনি কিন্তু যাতায়াত ভাড়া বেড়ে গেল’
রংপুরে বাসের অপেক্ষায় দূরপাল্লার যাত্রীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‘আমরা ছোট চাকরিজীবী। মাঝেমধ্যেই পারিবারিক বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনে বাড়িতে যেতে হয়। এভাবে বাস ভাড়া বৃদ্ধিতে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। আমাদের বেতন বাড়েনি কিন্তু যাতায়াত ভাড়া বেড়ে গেল’ বাড়িতে যাওয়ার পথে কথাগুলো বলছিলেন রংপুর নগরীর কামালকাছনা এলাকার বাসিন্দা সুমাইয়া খাতুন।

দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়ানোর পরেই বাড়তি খরচের কথা বলে প্রচলিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা ভাড়া নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছে রংপুরের দূরপাল্লার বাসগুলো। বাড়তি ভাড়ার চাপে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে গিয়ে প্রচলিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতে দেখা যায় দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারের ম্যানেজারসহ কর্তৃপক্ষদের। তবে বাস ভাড়া আদায়কারী বাস মালিক পক্ষের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পূর্বের নির্ধারিত দরেই বাস ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করে সরকার। গতকাল সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হলো। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।

সরেজমিনে রংপুর নগরীর কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্বরত ব্যক্তি ও সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রংপুর থেকে একটি বাস ঢাকায় যেতে আগে জ্বালানি খরচ বাবদ প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন দুই হাজার টাকা খরচ বাড়ছে। রংপুর থেকে চট্টগ্রাম যেতে জ্বালানি খরচ বেড়েছে প্রায় ২৬০০ টাকা।

জানা যায়, রংপুর থেকে ঢাকায় নন এসি বাসের নির্ধারিত ভাড়া ৮০০ টাকা হলেও যাত্রীদের ছাড় দিয়ে টিকিট বিক্রি করা হতো ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরেই ৮০০ টাকার নিচে কোনো যাত্রী পরিবহন করছে না দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউন্টার ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী। এছাড়াও রংপুর থেকে চট্টগ্রামে ভাড়া ১৫৯৯ টাকা হলেও ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় টিকিট পেত যাত্রীরা। জ্বালানি দাম বৃদ্ধির পরে নির্ধারিত ১৫৯৯ টাকা মূল্যেই টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন রংপুরের কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডের সভাপতি নাহিদ চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর থেকে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ছাড় মূল্যে টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে যাত্রীদের ওপর বাড়তি টাকার চাপ বেড়েছে। এরপরেও যদি মালিক সমিতি নির্ধারিত ভাড়া বৃদ্ধি করে তাহলে দূরপাল্লার যাত্রী সংকটে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।