এমপির হুঁশিয়ারির ৩ দিন পরই বালু উত্তোলন, প্রতিবাদে যুবককে মারধর

এমপির কড়া হুঁশিয়ারির মাত্র তিন দিন পার হতে না হতেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বহুল আলোচিত শান্তিপুর নদী থেকে জোরপূর্বক নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাধা দেওয়া ও ভিডিও ধারণ করায় নজরুল ইসলাম নামের এক যুবককে পিটিয়ে আহত করেছে বালুখেকো চক্র। একইসঙ্গে তার মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আহত নজরুলকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের শান্তিপুর নদীর পাড়ে ফসলি জমিতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড়ো ভাই আতিকুর রহমান বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—শান্তিপুর গ্রামের মুজিবুর রহমান, তার ভাই কফি মিয়া ও নজির হোসেন এবং চাচাতো ভাই মুক্তার হোসেন ও কদু মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে শান্তিপুর নদীর তীর রক্ষায় স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। সভায় এমপি কামরুল নদী রক্ষায় বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই হুঁশিয়ারির মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রকাশ্যেই নদী তীরের ফসলি জমি কেটে বালু উত্তোলন শুরু করে চক্রটি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর নদীর পাড়ে তাদের পৈতৃক ফসলি জমি রয়েছে। বিগত ২-৩ বছর ধরে প্রভাবশালী মুজিবুর রহমান ও তার ভাইয়েরা জোরপূর্বক সেই জমি থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে।
আজ সকালে আবারও তারা ফসলি জমি কেটে বালু তুলতে গেলে আতিকুরের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম বাধা দেন এবং নিজের মোবাইলে সেই দৃশ্য ভিডিও করতে থাকেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুজিবুরের ভাইয়েরা নজরুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে এবং তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা চিৎকার শুনে ছুটে এসে নজরুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
অভিযোগকারী আতিকুর রহমান বলেন, তিন দিন আগেই এমপি কামরুজ্জামান কামরুল মিটিংয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে—কেউ নদীর তীর কাটতে পারবে না। কিন্তু এরা এমপির নির্দেশ তোয়াক্কা না করে আমাদের ফসলি জমি কেটে বালু নিচ্ছে, বাধা দেওয়ায় আমার ভাইকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, জমি নিয়ে আতিকুর রহমানদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ রয়েছে। তারাই নদীর পার কেটে বালু নিতে চায়, আমরা বাধা দিয়েছি। আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে নজরুল ইসলামের কথাকাটাকাটি হয়েছে। তাকে মারধর করা হয়নি, ছোট ভাইয়ের হাতে ছাতা ছিল, হয়তো ছাতা লেগে গেছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, শান্তিপুর নদী এলাকায় পুলিশের টহল রয়েছে। একটি বিষয়ে আজ সকালে একজন ফোন করেছিলেন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জুম মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। থানায় অভিযোগ দিয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





