সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ‘জলদাড়ি’, দুর্ভোগে হাজারও কৃষক

একসময় বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন ও কৃষিজমিতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করত জয়পুরহাটের ঐতিহাসিক ‘জলদাড়ি’। যা স্থানীয় কৃষকদের কাছে ছিল কৃষির অন্যতম প্রাণশক্তি। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এ জলদাড়িটি আজ অস্তিত্বসংকটে।
দখল, ভরাট আর পলি জমে কোথাও সরু নালায় পরিণত হয়েছে, আবার কোথাও একেবারে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে জেলাটির ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলার অন্তত সাতটি গ্রামের হাজারো কৃষক দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলার মধ্যবর্তী এই জলদাড়ির ওপর কাচাকুল, নওটিকা, কেশুরতা, কাটাহার, বাঁশথুপী, বালাখুর ও সমশিরা গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির সেচ ও পানি নিষ্কাশন নির্ভরশীল। জলদাড়ির স্বাভাবিক প্রবাহ থমকে যাওয়ায় সামান্য বর্ষাতেই জমিতে পানি জমে থাকে। এতে রোপা আমন, আলু ও মৌসুমি ফসলের আবাদ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নওটিকা গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, একসময় জলদাড়িটি বেশ প্রশস্ত ছিল। বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যেত। সংস্কারের অভাবে এখন এটি সরু নালা হয়ে গেছে। পানি বের হতে না পারায় প্রতি মৌসুমেই আমাদের ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
একই ভোগান্তির কথা জানান কেশুরতা গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক, বাঁশথুপী গ্রামের নাজমুল হোসেন ও কাটাহার গ্রামের মামুনুর রশীদ। দ্রুত এ জলদাড়িটি পুনঃখনন করা হলে এ অঞ্চলের হাজারো একর কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তাইফুল ইসলাম জানান, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জয়পুরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াদুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন খাল চিহ্নিত করেছি। সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় জেলা থেকে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই নওটিকা-কেশুরতা খাল বা জলদাড়িটি পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
.png)





