Advertisement

তিন বছরেও চালু হয়নি ১১ কোটির প্রকল্প, ঝুলছে তালা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুড়িগ্রাম
তিন বছরেও চালু হয়নি ১১ কোটির প্রকল্প, ঝুলছে তালা
তালাবদ্ধ পড়ে আছে পাম্প হাউস। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারটি গভীর নলকূপ ও পাম্প হাউস তিন বছরেও চালু হয়নি। কোটি টাকার অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও তালাবদ্ধ পড়ে আছে পাম্প হাউসগুলো। ফলে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী।

সরজমিনে দেখা গেছে, পাম্প হাউসের পাশে গভীর নলকূপ স্থাপন, বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন বাসানোর কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে বছরের পর বছর ধরে পাম্প হাউসের ফটকে ঝুলছে তালা। চালু করা যায়নি পানি সরবরাহ কার্যক্রম।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে প্রায় ৬০ হাজার জনসংখ্যা নিয়ে ২৭ দশমিক ৩৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উলিপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। সুপেয় পানি সরবরাহের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় ২০২১ সালে এটি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২২ সালে পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেয়। ২০২৩ সালে চারটি পাম্প হাউস, গভীর নলকূপ এবং পাইপলাইন নির্মাণ শেষ হলেও প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে আর আলোর মুখ দেখেনি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি গভীর নলকূপ ও পাম্প হাউস এবং প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটি সচল হলে উলিপুর পৌরসভার প্রায় ২ হাজার ৬৫০টি পরিবার সরাসরি বিশুদ্ধ পানির সুবিধার আওতায় আসবে।

কোটি টাকার প্রকল্প বছরের পর বছর অচল পড়ে থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় পৌরবাসী। উলিপুর পৌরসভার বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, পাম্প হাউস ও গভীর নলকূপ সবই তৈরি হলো, কিন্তু তিন বছর ধরে তালা ঝুলছে। বাধ্য হয়ে অনিরাপদ পানি পান করছি। এই অনিয়ম ও অবহেলার তদন্ত করে দ্রুত পানি সরবরাহ চালু করার দাবি জানাচ্ছি।

পৌরসভার আরেক বাসিন্দা হেলেনা বেগম বলেন, কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার বাসিন্দা হলেও নাগরিক সুবিধার মুখ দেখছি না। সুপেয় পানির অবকাঠামো বানিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে, আমরা প্রয়োজনীয় পানি সেবা পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ বলেন, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক নিবন্ধিত গ্রাহক পাওয়া যায়নি। চারটি পাম্প হাউস সচল করতে কমপক্ষে ২ হাজার ৬৫০ জন গ্রাহক প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৭০০ জন সংযোগের জন্য নিবন্ধন করেছেন। প্রয়োজনীয় গ্রাহকসংখ্যা পূরণ হলেই দ্রুত এটি চালু করা সম্ভব হবে।