ভুল প্রশ্নে ইংরেজি পরীক্ষা, অনিশ্চয়তায় ৭৭ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সুনামগঞ্জ
ভুল প্রশ্নে ইংরেজি পরীক্ষা, অনিশ্চয়তায় ৭৭ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
বড়খাল বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে আলিম (এইচএসসি) পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের চরম গাফিলতিতে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলার একটি কেন্দ্রের ৭৭ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীর ফলাফল ও শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

পরীক্ষার পর বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ারাবাজার উপজেলার ‘কলাউড়া দারুসসুন্নাত কাছিমিয়া ফাজিল মাদ্রাসা’ কেন্দ্রের ‘বড়খাল বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ ভেন্যুতে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে ৭৭ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষক ও পরিদর্শকদের কেউই বিষয়টি টের পাননি। পরীক্ষার্থীরাও তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে না পেরে ওই ভুল প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।

ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি ভিন্ন হওয়ায় দুটি প্রশ্নপত্রের মান ও বিষয়বস্তু আলাদা ছিল। এখন যদি নিয়মিতদের উত্তরপত্র অনিয়মিতদের প্রশ্ন অনুযায়ী কিংবা অনিয়মিতদের উত্তরপত্র নিয়মিত প্রশ্ন অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়, তবে সবারই অকৃতকার্য হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, আমরা না বুঝেই পরীক্ষা দিয়েছি। পরে জানতে পারলাম আমাদের অনিয়মিতদের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। যদি এখন নিয়মিত প্রশ্ন অনুযায়ী আমাদের খাতা মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে আমরা সবাই ফেল করব। আমাদের পুরো শিক্ষাজীবনটাই ধ্বংস হয়ে যাবে।

এই ঘটনার দায় স্বীকার করে পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও কলাউড়া দারুসসুন্নাত কাছিমিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কালিম উল্লাহ বলেন, এটি আমাদের সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ভুল। অনিচ্ছাবশত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মাঝে অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। এমন ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

পরীক্ষা কেন্দ্রের তদারকি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই আমি ইউএনওকে অবহিত করেছি। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, খবর পেয়েই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা জরুরি বৈঠক করেছি। এই ঘটনায় কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের চরম অদায়িত্বশীলতা ও অবহেলা রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি। পাশাপাশি যাদের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটেছে, তাদের কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।