দখলদারদের অনুরোধে মাছ তুলে নিতে দুই সপ্তাহ সময়

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বাগেরহাট
দখলদারদের অনুরোধে মাছ তুলে নিতে দুই সপ্তাহ সময়
সরকারি খাল দখল করে মাছ চাষ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের কাঠি গোমতি গ্রামের দেলভাষানী খাল পুনরুদ্ধারে গিয়ে দখলকারীদের আবেদনের পর তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধ বাঁধ অপসারণ থেকে বিরত থাকে প্রশাসন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে খালে চাষ করা মাছ তুলে নেওয়ার জন্য দখলকারীদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে খালটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দেলভাষানী খাল পুনরুদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণের প্রস্তুতির সময় সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন মাছচাষি ও স্থানীয় ব্যক্তি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বাঁধ না কাটার অনুরোধ জানান। পরে সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের কাছেও একই আবেদন জানানো হয়।

মাছচাষিদের দাবি, খালে বিপুল পরিমাণ মাছ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ অপসারণ করা হলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাদের ভাষ্য, খালে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ রয়েছে। তাই মাছ তুলে নেওয়ার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে খালটি দখলমুক্ত করার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে খালটির ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও এরপর আর কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। তারপরও প্রভাবশালী একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছে। এতে লবণাক্ত পানি আটকে থাকায় কৃষিকাজ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম কাজী বলেন, আমি খাল দখল করিনি। আওয়ামী লীগ সরকার চলে যাওয়ার পর গত এক বছর ধরে ছাত্রদল, যুবদল ও দলীয় লোকজন এই খাল ভোগদখল করছে।

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, খাল খনন ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ সরকারের চলমান কর্মসূচির অংশ। সারা দেশের মতো বাগেরহাটেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ এখানে এসে জানতে পেরেছি খালে মাছ চাষ করা হচ্ছে। তারা সময় চেয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মাছ তুলে নেওয়ার পর খালটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। জনস্বার্থে সব সরকারি খাল দখলমুক্ত করা হবে।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, দেলভাষানী খালে যারা দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছিলেন, তারা সময় প্রার্থনা করেছেন। কৌশলগত কারণে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাছ তুলে নেওয়ার পর প্রশাসন খালটি দখলমুক্ত করে উন্মুক্ত করবে। সরকারি খাল কোনোভাবেই ব্যক্তিগত দখলে থাকতে দেওয়া হবে না।

বিষয় :বাগেরহাট