কাঁঠালপাতা নিয়ে বিরোধের জেরে শিশুকে হত্যা, ১৪ বছর পর তিনজনের যাবজ্জীবন

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কাঁঠালগাছের পাতা কুড়ানো কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সাত বছরের শিশু সুমন হত্যার ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপনের দায়ে তাদের প্রত্যেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আবুল কাশেম, মুকাদ্দেস ও স্বপন। তারা সবাই সরিষাবাড়ী উপজেলার মাগুড়িয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাগুড়িয়াপাড়া এলাকায় কাঁঠালগাছের পাতা কুড়ানো নিয়ে আসামিদের সঙ্গে প্রতিবেশী সবুজা বেগম নামে এক নারীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা তাকে মারধর করেন। এটি দেখে সবুজা বেগমের দেবর বাবুল মিয়া বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আসামিরা তাকেও বেদম মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর ওই দিন থেকেই বাবুল মিয়ার সাত বছর বয়সি ছেলে সুমন নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর সরিষাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর ৫ সেপ্টেম্বর সকালে চাপারকোনা বাজারসংলগ্ন ঝিনাই নদী থেকে শিশু সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা বাবুল মিয়া বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে সরিষাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়ে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, মামলাটি দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার পর বিজ্ঞ আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
.png)






