Advertisement

চট্টগ্রামে নিহত সন্ত্রাসী বাবলার ঘরের পাশ থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলি উদ্ধার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে নিহত সন্ত্রাসী বাবলার ঘরের পাশ থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলি উদ্ধার
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় নিহত সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলার ঘরের পাশ থেকে থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৭)।

শনিবার (২৫ জুলাই) র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ, আর, এম, মোজাফফর হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার পাড়ার কালু মুন্সীর বাড়ির সামনে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে কয়েকজন অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে অভিযান চালায় র‍্যাব।

র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যায়। এলাকাটি তল্লাশি করে আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তির বসতঘরের উত্তর পাশে দেওয়ালসংলগ্ন একটি হাছনাহেনা ফুল গাছের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় অভিযুক্তদের ফেলে যাওয়া একটি ৭.৬৫ বোরের বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

আব্দুল কাদের নামে র‌্যাব যার কথা বলছে তিনি গত বছর টার্গেট কিলিংয়ের শিকার চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলার বাবা। দেড় দশকের বেশি সময় আগে চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ ‘শিবির ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ হোসেন খানের সহযোগী হিসেবে বাবলার আত্মপ্রকাশ ঘটে। আরেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী নুরুন্নবী ম্যাক্সন ও সরোয়ার যৌথভাবে বায়েজিদ, পাঁচলাইশ এবং চান্দগাঁও এলাকায় অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন।

২০১৫ সালের দিকে সাজ্জাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে বাবলা নিজের আলাদা বলয় গঠন করেন। এতে সাবেক গুরুর বাহিনীর সঙ্গে তার শত্রুতা দেখা দেয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, বাবলার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ ১৫টির বেশি মামলা ছিল। বিভিন্ন সময় তিনি একে-৪৭ রাইফেল, পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাবলা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর জামিনে কারামুক্ত হয়ে বাবলা রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার ওপর থেকে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা মুছে ফেলার প্রয়াস চালান। নিজেকে তিনি জুলাইযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, গণসংযোগ এবং সামাজিক কর্মসূচিতে সক্রিয় হন। তাকে নগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অংশ নিতে দেখা যেত।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে তার চলন্ত গাড়িতে প্রতিপক্ষ দল এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। সে যাত্রায় বাবলার দুই সহযোগী মারা গেলেও তিনি বেঁচে যান। এর আগে ও পরে বিভিন্ন সময় বাবলার ঘনিষ্ঠ অন্তত ছয় জন চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের এলাকায় টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হন।

২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর চান্দগাঁও চালিতাতলী এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও ওই আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে জনসংযোগ করার সময় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাবলা নিহত হন। ওই ঘটনায় এরশাদ উল্লাহও গুলিবিদ্ধ হন।

তখন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাসিব আজিজ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে সাজ্জাদের অনুসারীরা বাবলাকে টার্গেট করে হত্যা করেছে। ওই ঘটনার পর থেকে সরোয়ার বাবলার বলয় আলোচনার বাইরে চলে যায়।

স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, শনিবার রাতে বাবলার বাড়িতে অভিযান চালায় র‍্যাব। সেই অভিযানে ওই বাড়ি থেকে অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

এই বিষয়ে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া র‍্যাব-৭ এর হাটহাজারী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মো. সাইফুর রহমান বলেন, আব্দুল কাদের ও ইসহাক মিয়া নামে দুই ব্যক্তির বসতঘরের মাঝখান থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। সেটা বাবলার ঘর কি না জানা নেই। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে।