‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় সাত শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে স্কুল ও কলেজের সাত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাতে থানার পাশে শাহীদ আলী মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে নাশকতার মামলায় শনিবার রাতে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীরা হলো হবিবপুর গ্রামের অনিক দাস (১৮), ডুমরা গ্রামের বর্ষণ তালুকদার (১৮), সৌমিত্র দাস (১৮), দীপ্ত দাস (১৮), অভি সরকার (১৬), দেব দাস (১৬) ও ইমন দাস (১৬)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি ক্লাবের ফুটবল খেলা উপলক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী শুক্রবার রাতে শাল্লা উপজেলা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে খাবারের আয়োজন করেছিল। খাবার খেয়ে বাড়ি ফেরার সময় শাহীদ আলী মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ এলাকায় তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেয়। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে স্লোগান ও মিছিল দেওয়ার অভিযোগে প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর নাশকতার মামলায় আসামি করে শনিবার রাতে তাদের সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সকিনা আক্তার গ্রেপ্তার সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শাল্লা জোনের জিআরও এএসআই মো. আবুল কাশেম।
এদিকে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া কেউই কোনো ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। সবাই স্কুল-কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী। তারা বন্ধু-বান্ধব মিলে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর এমনিতেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের স্বজনেরা দুশ্চিন্তায় আছেন।
বর্ষণ তালুকদারের বাবা অনাদি তালুকদার বলেন, আমার ছেলে কোনো রাজনীতি করে না, রাজনীতি বুঝে না। কিন্তু পুলিশ স্লোগান ও মিছিল দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে নাশকতার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। তাদের কারাগার থেকে মুক্ত করার বিষয়ে আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছি।
স্কুলছাত্র অভি সরকারের বাবা বাদল সরকার বলেন, আমার ছেলে হাইস্কুলে পড়ে, সে রাজনীতির কী বুঝে। তারা নাকি কয়েকজন মিলে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে—এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার রাতে আদালতে পাঠিয়েছে। ছেলেকে নিয়ে পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় আছি।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেল বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা শুক্রবার রাতে নিষিদ্ধ সংগঠনের স্লোগান দিয়েছে ও মিছিল করেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।