‘আওয়ামী লীগ করার কারণে প্রতিদিন ১০টা জুতার বাড়ি আমার প্রাপ্য’

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সঞ্জয় শর্মার ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলাম, আওয়ামী লীগ করার কারণে প্রতিদিন আমাকে দশটা জুতার বাড়ি দেওয়া দরকার।’
রোববার (৫ জুলাই) রাতে ফেসবুক দেওয়া পোস্টে সঞ্জয় শর্মা লিখেছেন, শিখে নেন নেতাকর্মীর বিন্যাস। আওয়ামী পরিবারের চরম শিক্ষা হওয়া দরকার। ৮০-৯০ কোঠায় বয়স হয়েও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারির লোভ ছাড়তে পারলেন না। ওনাদেরকে ছাড়া নাকি জেলা আওয়ামী লীগ চলবে না।
‘কবির-তানিম-মিঠু-সীমার মতো লোকেরা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ঢোকার অনুমতি পেলেন না। অথচ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, একবার তাদের খোঁজও নিলেন না।’
তিনি আরও লিখেছেন, পোস্ট-পদবি ভাগ-বাটোয়ার কথা নাই বললাম। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি করে, বাবা-মা-বোনদের অবাধ্য হয়ে, পরিবার-সন্তানদের বঞ্চিত করে দলের জন্য কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত যথাযথ মূল্যায়ন পাইনি। বরং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। অথচ তখন আমি বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক।
‘বৃহত্তর বাগমারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান বাগমারা উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্বে থেকে আওয়ামী লীগের (লোটাস কামাল সাহেবের) সকল কার্যক্রম সফল করতে সহযোগিতা করেছি। অথচ মন্ত্রী অথবা মন্ত্রী পরিবার ‘সঞ্জয়’ নামক ব্যক্তিটাকে চেনেনই না।’
পোস্টের শেষে তিনি লিখেছেন, গভীর চিন্তা করে দেখলাম, আওয়ামী লীগ করার দায়ে প্রতিদিন দশটা জুতার বাড়ি আমাকে দেওয়া দরকার। তবুও বিপন্নপ্রায় জীবনে, শত যাতনা কাঁধে নিয়ে বলি ‘আমি জয় বাংলার লোক’। কামনা করি ভালো থাক প্রিয় বাংলাদেশ, অটুট থাক প্রিয় স্বাধীনতা।
উল্লেখ্য, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও নিষিদ্ধের আওতায় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সঞ্জয় শর্মার এই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।





