শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার আলোচিত পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ বুধবার (১ জুলাই)। এর আগে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ দুই দফা পরিবর্তন করে ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়।।বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার বছরের আইনি লড়াই শেষে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে নিহত আসমার পরিবার। নিহত আসমার বাবা বর্তমানে ঢাকার তেজগাঁও জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। জেলার বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তারের আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ চাটখিল উপজেলার মেঘা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আসমা। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় একই বাড়ির বাবলু মিয়ার ছেলে শাহাদাতকে ঘটনার ৯ দিন পর গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শাহাদাত জানান, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।
আসমার বাবা মাওলানা মো. শাহজাহান বলেন, আমার নিষ্পাপ মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আসামি শাহাদাতের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানাই।
চার বছর ধরে আমরা বিচারের অপেক্ষায় আছি। আদালতের কাছে আমাদের একটাই দাবি- দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি সেলিম শাহী বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে আদালত আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর চাটখিলজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও একমাত্র আসামির ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেয়।






