Advertisement

ধর্ষণের পর হত্যা: ভারতে পালানোর সময় প্রেমিক গ্রেপ্তার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সাভার
ধর্ষণের পর হত্যা: ভারতে পালানোর সময় প্রেমিক গ্রেপ্তার
ছবি : এশিয়া পোস্ট

সাভারে শারমিন আক্তার (৩৯) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রেমিক মো. মাসুম ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ভারতে পালানোর সময় কুড়িগ্রাম সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মাসুম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ ও পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত শারমিন আক্তার পূর্বে বিবাহবিচ্ছেদপ্রাপ্ত ছিলেন এবং তার ১৩ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত মাসুমও বিবাহিত ও সন্তানের জনক। তিনি ‘প্রজাপতি পরিবহন’-এর লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও পূর্বপরিচয়ের সূত্রে শারমিনের সঙ্গে মাসুমের পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. খালেক জানান, শারমিনের বাবা সামাজিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ায় মেয়েকে নিয়মিত টাকা-পয়সা দিতেন। মাসুমের নজর ছিল সেই টাকার ওপর। সম্পর্কের একপর্যায়ে শারমিন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মাসুম তাকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে শারমিন বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাসুম তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং সম্পর্ক বজায় রেখে কেবল আর্থিক ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চালান। এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ ও মনোমালিন্য চলছিল।

গত ১ জুলাই রাতে মুঠোফোনে দুজনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে পরদিন ২ জুলাই সাভারের বড়দেশী এলাকায় শারমিনের ভাড়া বাসায় যান মাসুম। সেখানে শারীরিক সম্পর্কের পর পুনরায় তাদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওড়না পেঁচিয়ে শারমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মাসুম। পরে মরদেহ ঘরের ভেতর ফেলে রেখে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

পিবিআই জানায়, ২ জুলাই শারমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাবা বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ৮ জুলাই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক তদন্ত কৌশলের সহায়তায় ঘাতক মাসুমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে কুড়িগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত ও পেশাদার দক্ষতার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ঘাতককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধী যত দূরেই পালানোর চেষ্টা করুক না কেন, তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় :সাভার