সাভারে পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাই

ঢাকার সাভারে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। আসামিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় আহত ওই দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বক্তারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাভার মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে বক্তারপুর এলাকায় অভিযানে যান সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শামীম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মশিউর রহমান খান।
অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ রফিকুলকে ধরে ফেলে। তবে বিপত্তি ঘটে হাতকড়ি পরানোর সময়।
আহত পুলিশ কর্মকর্তা শামীম বলেন, আমরা রফিকুলকে ধরে যখন হ্যান্ডকাফ পরাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই রফিকুলসহ ৭-৮ জন ইট ও লাঠি সোটা নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে আরও লোক জড়ো হয়ে প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আমাদের ওপর চড়াও হয়। তারা আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে আসামি রফিকুলকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা সাভার মডেল থানার আরেকটি ব্যাকআপ পুলিশের টিম খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছায় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ওই দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
আহত দুই পুলিশ সদস্যকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফারদিন আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি ও ইটের আঘাতের গুরুতর চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে সাভার থানার দুজন পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশের ওপর হামলার দায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক আসামি রফিকুলসহ হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে।
.png)






