চাটখিলে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ

নোয়াখালীর চাটখিলে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের নাম ও ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে অপপ্রচার এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
সোমবার (২০ জুলাই) চাটখিল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নোয়াখালী প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম কানন বাদী হয়ে চাটখিল থানায় এ অভিযোগ দেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক কানন নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ ও নোয়াখালী টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই সাংবাদিক কামরুল ইসলাম কানন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ‘রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন’ নিয়ে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট দেন। পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না থাকলেও, তা প্রকাশের পর পরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে একটি প্রভাবশালী চক্র।
অভিযুক্ত মো. সুমন ওরফে ‘ইয়াবা সুমন’, মোহন ওরফে ‘ঠোঁটকাটা মোহন’ এবং মহিন নামের তিন ব্যক্তি তাদের নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক কাননের ছবি ও নাম বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেন। একইসঙ্গে তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে, হাফিজুর রহমান শাওন নামের অপর এক ব্যক্তি আসামিদের সেই অবমাননাকর পোস্টগুলো বিভিন্ন গ্রুপ ও নিজের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করে এই অপপ্রচারে ইন্ধন যোগান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত সুমন ও মোহন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিজেদের যুবদল কর্মী পরিচয় দিয়ে এবং নোয়াখালী-১ আসনের স্থানীয় নেতার নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি ও জমি দখলের মতো নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, তাদের সহযোগী মহিন বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় বিতর্কিত ‘ভাগিনা বাহিনীর’ অন্যতম সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল এবং সে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মহিন বর্তমানে পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
অপপ্রচারের বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক কামরুল ইসলাম কানন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার দুই যুগেরও বেশি সময়ের পেশাগত জীবনে অর্জিত সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার সামাজিকভাবে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমন ও মোহনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এশিয়া পোস্টকে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
.png)






