কমছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি

কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষকদের ক্ষতির চিত্র। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব কষে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
শনিবার (৪ জুলাই) জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে পটল, মরিচ, বেগুন, আমনের বীজতলা, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আবাদি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু এক দফা বন্যাতেই তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সম্পন্ন করে তাদের হাতে কৃষি প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হোক। তাদের মতে, সময়মতো সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না।
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, বন্যার পানিতে আমার বিভিন্ন ধরনের সবজি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এত বড় ক্ষতির পর কী করব বুঝতে পারছি না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
একই এলাকার কৃষক আবু বলেন, আমার বেগুন ও পটলের ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সরকার যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন হবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আর দুই-এক দিনের মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও পরামর্শ দেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নতুন করে মরিচ, বেগুন, শসা ও শাকজাতীয় ফসল চাষ করতে পারেন। আর তা সম্ভব না হলে মাসকলাই চাষ লাভজনক বিকল্প হতে পারে। যেহেতু আবারও বন্যা হতে পারে, তাই উঁচু জমিতে আমন বীজতলা তৈরি করতে হবে। তবে পাট ইতিমধ্যে বড় হয়ে যাওয়ায় পাটের তেমন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।




