logo

নাটোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি


নাটোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি
নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন অভিভাবকরা।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবুল হায়াত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণিতে বোর্ড নির্ধারিত ফি যথাক্রমে ২৩৩ ও ২৮২ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ ও ৪০০ টাকা। নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের নির্ধারিত ফি ৯৮ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা।

তাদের আরও অভিযোগ, বার্ষিক ভোজ ও টিফিনের বরাদ্দের অর্থেও অনিয়ম রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মানসম্মত টিফিন দেওয়া হয় না। ৯ টাকা ৫০ পয়সা মূল্যের টিফিন কিনে ভাউচারে ১৮ টাকা দেখানোর অভিযোগও করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের আইসিটি ফান্ডে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ক্রীড়া ফান্ডে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। গত পাঁচ বছরে ম্যাগাজিন প্রকাশের জন্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও কোনো ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ল্যাবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি, অপরিষ্কার টয়লেট এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগও করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহমেদ বলেন, হয়তো কেউ ভুল তথ্য উপস্থাপন করে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আবুল হায়াত বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হবে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।