ডিমলায় বেহাল দুই কিলোমিটার সড়ক, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে তিস্তা নদীবেষ্টিত সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যমটি এখন চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে মুক্তারের দোকান হয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গাইড বাঁধ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী ও সীমান্ত এলাকার হাজারো বাসিন্দা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গয়াবাড়ী ইউনিয়নের শুটিবাড়ি বাজার থেকে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক চলাচলের উপযোগী রয়েছে। তবে ইউপি ভবন থেকে মুক্তারের দোকান পর্যন্ত এক কিলোমিটার অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আর মুক্তারের দোকান থেকে ডালিয়া পাউবো গাইড বাঁধ পর্যন্ত আরও এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক বর্ষায় কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার হলেও শেষের দুই কিলোমিটার অংশই মানুষের দুর্ভোগের মূল কারণ।
সড়কটির দুই পাশ ও তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় যাতায়াতে বিকল্প কোনো কার্যকর সড়ক না থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে চরাঞ্চলবাসীকে।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে শুটিবাড়ি বাজার থেকে মুক্তারের দোকান পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ করা হয়। পরে শুটিবাড়ি বাজার থেকে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পর্যন্ত অংশ সংস্কার করা হলেও ইউপি ভবন থেকে মুক্তারের দোকান পর্যন্ত এক কিলোমিটার অংশ আর সংস্কার করা হয়নি। অন্যদিকে মুক্তারের দোকান থেকে ডালিয়া পাউবো গাইড বাঁধ পর্যন্ত এক কিলোমিটার অংশ এখনও কাঁচাই রয়ে গেছে।

তিস্তাবেষ্টিত চরাঞ্চল উপজেলার অন্যতম প্রধান কৃষি উৎপাদন এলাকা। প্রতিবছর এখানে বিপুল পরিমাণ গম, ভুট্টা, বাদাম, ধান, মরিচ, পেঁয়াজসহ নানা ধরনের শাকসবজি উৎপাদিত হয়। হাটের দিন কৃষিপণ্য বিক্রি করতে গিয়ে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা। অনেক সময় কাদা ও গর্তে যানবাহন আটকে পড়ায় সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
সড়কটির শেষ প্রান্তে তিস্তা নদীসংলগ্ন বার্নির ঘাট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির একটি বিওপি ক্যাম্প রয়েছে। ফলে সীমান্তবাসী ও বিজিবি সদস্যদেরও নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় নিয়মিত যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছে শত শত শিক্ষার্থী।
তিস্তা বাজার এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, বছরের পর বছর ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচল করছি। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। ফলে আবাদের খরচ ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বাড়ছে, লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের।
ইজিবাইক চালক খলিলুর রহমান বলেন, খানাখন্দ আর কাদার কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ির কলকবজা নষ্ট হচ্ছে। উপার্জনের চেয়ে মেরামতের পেছনেই বেশি টাকা বেরিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কেনাবেচাতেও ভাটা পড়েছে; দুর্ভোগের ভয়ে অনেক ক্রেতাই বাজারে আসতে চান না।
এলাকাবাসীর দাবি, টেপাখড়িবাড়ী ইউপি ভবন থেকে মুক্তারের দোকান পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি পরবর্তী এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণ করা হোক। এতে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান বলেন, সড়কটি উন্নয়নের বিষয়টির পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






