বিদ্যালয় ভবনে ফাটল, ঝুকি নিয়ে পাঠদান

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বক্তারকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে চলছে পাঠদান। ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না।
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বিদ্যালয়টি চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ে। বিদ্যালয় ভবনটি নিচু স্থানে হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই চারপাশে পানি জমে যায়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় সেসব ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি সরাসরি শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠ গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বৃষ্টির সময় বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বই ও আসবাবপত্র রক্ষায় আলমারি, টেবিল-চেয়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রী হাই বেঞ্চের ওপর তুলে রাখতে হচ্ছে। তারপরও অনেক নথি ও কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হচ্ছে।
অভিভাবক আলম শেখ বলেন, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সন্তানকে স্কুলে পাঠাই। ভবনের অবস্থা এতটাই খারাপ যে বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যায়। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দ্রুত একটি নতুন বিদ্যালয় ভবন চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল শেখ বলেন, বহু বছর ধরে বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হয়। কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিশা আক্তার বলে, বৃষ্টি হলে ক্লাসে পানি ঢুকে যায়। বেঞ্চ ভিজে যায়, ঠিকমতো বসে পড়তে পারি না। অনেক সময় বই-খাতাও ভিজে যায়। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বি শেখ বলে, ছাদ থেকে পানি পড়ে মেঝেতে পানি জমে থাকে। তখন ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। আমরা সব সময় ভয়ে থাকি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তানিয়া আক্তার বলেন, বর্ষা এলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে। অনেক সময় মেঝেতে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বসিয়ে পাঠদান করানো কঠিন হয়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস নিতে হয়। বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যায়, এতে তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অথবা জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।
প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি অত্যন্ত পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল রয়েছে। বর্ষা এলেই ওই ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষ জলাবদ্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভবনের ঝুঁকির কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পান।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী হাসান বলেন, বিদ্যালয়টি আশপাশের এলাকার তুলনায় নিচু হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এরই মধ্যে সেখানে বালু ভরাট করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের পাশের খাল খননের পর মাটির স্তূপ সরানো না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে যে বরাদ্দ রয়েছে, তা থেকে কীভাবে সহায়তা করা যায় সেটিও দেখা হবে। ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ এবং পরিবর্তন করা জরুরি। তবে নতুন ভবন নির্মাণে জমির স্বল্পতা ও কিছু কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিরাজ মোল্লা বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন এসেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের করণীয় থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






