Advertisement

পররাষ্ট্রনীতিতে মার্কিন উপদেশ মানবে না মালয়েশিয়া: পার্লামেন্ট মেম্বার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
পররাষ্ট্রনীতিতে মার্কিন উপদেশ মানবে না মালয়েশিয়া: পার্লামেন্ট মেম্বার
ওয়ান আহমদ ফায়সাল। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কোনো দেশ বা আইনসভার উপদেশ মালয়েশিয়া গ্রহণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট মেম্বার ওয়ান আহমদ ফায়সাল বিন ওয়ান আহমদ কামাল।

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং তাদের নাগরিকদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কারণে মালয়েশিয়ার সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে আটজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কোয়ালালামপুর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশটির অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও মাচাং আসনের সংসদ সদস্য এই মন্তব্য করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পার্লামেন্ট মেম্বার ওয়ান আহমদ ফায়সাল বলেন, মালয়েশিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নির্ধারিত হয় না, বরং মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় তৈরি হয়। মালয়েশিয়া কোন রাষ্ট্রের নাগরিকদের ঢোকার অনুমতি দেবে কিংবা কাকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়ার কোনো অধিকার বাইরের কোনো আইনসভার নেই।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থন চিরস্থায়ী ও অবিচল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গাজায় সংঘটিত অপরাধের দায়ে তদন্তের মুখোমুখি হওয়া একটি দখলদার বাহিনীর সঙ্গে মালয়েশিয়া কখনোই সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।

আহমদ ফায়সাল বলেন, মালয়েশিয়ার এই নীতির সঙ্গে তথাকথিত ইহুদি বিদ্বেষের কোনো সম্পর্ক নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও মালয়েশিয়া নিজেদের এই আদর্শ ধরে রেখেছে, যা সম্প্রতি মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট শেয়ারের বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপেও স্পষ্ট হয়েছে।

আমেরিকার সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে সতর্ক ও দৃঢ় থাকার তাগিদ দিয়েছেন এই রাজনীতিবিদ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (আইএমইটি) তহবিলের মতো খাতগুলোতে সম্ভাব্য হুমকির মুখেও পিছু না হটতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি যেসব পরোক্ষ পথ, শিক্ষা, কারিগরি ও সামরিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার এই জাতীয় অবস্থানকে গোপনে দুর্বল করা হতে পারে, সেগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।

Media-statement-of-Malyashia

বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে পেরিকাতান ন্যাশনাল জোটের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ও পার্টি ওয়াসান নেগারার এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, কোনো রকম দ্বিধা বা ক্ষমা চাওয়ার মনোভাব ছাড়াই মালয়েশিয়া সবসময় প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের পাশে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব

এদিকে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েল বিরুদ্ধে কঠোর পররাষ্ট্রনীতির জেরে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ শাহরুল ইকরাম ইয়াকোবকে তলব করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান জানান, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে হাজির হয়ে রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়া কোনো নতুন ঘটনা নয়। এটি মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান আরও জানান, ইসরায়েলকে আমরা কখনোই স্বীকৃতি দিব না। আমাদের অভিবাসন নীতি শুরু থেকেই এই নীতি অনুসরণ করে আসছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা এক ব্যক্তি সম্প্রতি মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। পরে তদন্তে তার ইসরায়েলি নাগরিকত্বের প্রমাণ মিললে তাকে অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কারণ, ইসরায়েলের সঙ্গে মালয়েশিয়ার কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় কুয়ালালামপুর সর্বদা সোচ্চার।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত মার্কিন বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসন পরিচালিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে এই কূটনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, ওই প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি নাগরিকরা অংশ নিচ্ছেন। প্রশাসনিক তদন্তের পর সব অংশগ্রহণকারীর ভ্রমণ নথিপত্র বৈধ পাওয়া গেলেও গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। এর জেরে দেশে অবস্থানরত সকল ইসরায়েলিকে খুঁজে বের করে বিতাড়নের ঘোষণা দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দেন যুক্তরাষ্ট্রের আটজন কংগ্রেস সদস্য।

তবে মার্কিন কংগ্রেসের এ ধরনের আপত্তির মুখেও নিজের সিদ্ধান্তে একদম অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা যত হুমকি বা ভয়ই দেখাক না কেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা ধারাবাহিক নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার প্রতিবাদ বহাল থাকবে এবং ইসরায়েলিদের প্রবেশে চিকিৎসাতুল্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা হবে।