‘যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগে বরখাস্ত আন্তর্জাতিক আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে ‘যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগে অপসারণ করেছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরিচালনা পর্ষদ অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিস-এর ভোটাভুটিতে তাকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে করিম খানের আইনি দল।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র চাপের মধ্যে ৫৬ বছর বয়সি এই ব্রিটিশ ব্যরিস্টারকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
করিম খানের আইনি দলের প্রধান তাইয়াব আলী জানান, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিষেবা দপ্তরের (ইউএনওআইওএস) প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিচারিক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছিল, করিম খান কোনো আইনি কাঠামো বা দায়িত্ব লঙ্ঘন করেননি। আদালতের এই স্বাধীন তদন্তকে উপেক্ষা করেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে অন্যায্য দাবি করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা তখন টিকে থাকে যখন এর নির্বাচিত কর্মকর্তারা রাজনৈতিক বা কার্যপ্রণালীগতভাবে অন্যায্য অপসারণ থেকে সুরক্ষা পান। অতিরিক্ত রাজনৈতিক চাপ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা অবস্থায় তাকে শুনানির ন্যায্য সুযোগ না দিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ সামনে আসার প্রায় দুই বছর পর সদস্য রাষ্ট্রগুলো বরখাস্তের চূড়ান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদন করল। এর আগে গত জুনে তদারকি প্যানেল মারাত্মক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানালে তিনি পদ থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
আইসিসি জানিয়েছে, আপাতত করিম খানের জায়গায় ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীন খান এবং মামে মানদিয়ায়ে নিয়াং প্রসিকিউটরের দায়িত্ব সামলাবেন। ‘স্যারা’ ছদ্মনামের এক নারী সিএনএনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, ঘুমানোর ভান করে থাকার সময় করিম খান তাকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করেছিলেন। করিম খান শুরু থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েন করিম খান। তৎকালীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেল এক নিবন্ধে সতর্ক করেছিলেন, করিম খানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আইসিসির ওপর এক বড় ধরনের আক্রমণের অংশ। করিম খানের অপসারণের পর নতুন প্রসিকিউটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও আগামী বছরের আগে সেই নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এই রদবদলের ফলে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ তা প্রত্যাহারের এখতিয়ার কেবল আইসিসির বিচারকদের রয়েছে।
এদিকে করিম খানের বরখাস্তের খবর সামনে আসতেই আইসিসির তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার দাবি করেন, নিজের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকা দিতে করিম খান ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তিনি আদালতটিকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এটি বন্ধের দাবি জানান।
অন্যদিকে, হেগে অবস্থিত ফিলিস্তিনি মিশন ইসরায়েলের এই দাবিকে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, করিম খানের বরখাস্ত হলেও যেকোনো অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা সবসময় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
.png)





