ঢ্যাঁড়সের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বাগেরহাট
ঢ্যাঁড়সের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক
ঢ্যাঁড়সের বাম্পার ফলন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাগেরহাটে চলতি মৌসুমে ঢ্যাঁড়সের (ভেন্ডি) বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। মাঠজুড়ে আশাতীত উৎপাদন হলেও সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকদের লাভের আশা এখন ম্লান হতে বসেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, উপকূলীয় এই অঞ্চলে ফসলটি লবণসহিষ্ণু হওয়ায় উৎপাদন বেশি হয়েছে। তবে আগাম চাষ ও বাজারজাতকরণে আধুনিকতা আনা গেলে কৃষকেরা ভালো দাম পেতেন।

Advertisement

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার বাগেরহাটের নয়টি উপজেলায় প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে ঢ্যাঁড়সের আবাদ হয়েছে। উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে জেলার সদর, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী ও কচুয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার মাঠ এখন সবুজ ঢ্যাঁড়সে ভরপুর। ফলন ভালো হওয়ায় শুরুতে চাষিদের মুখে হাসি ফুটলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

ক্ষতিগ্রস্ত চাষি শিশির কুমার, হরিপদ ও নিলয় জানান—বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। অথচ বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকার অজুহাতে পাইকারেরা নামমাত্র দাম হাঁকাচ্ছেন। ভোর থেকে মাঠের ফসল তুলে বাজারে এনে পাইকারি দরে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন থাকলে আগামী মৌসুমে অনেকেই এই সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ঢ্যাঁড়স একটি লবণসহিষ্ণু ফসল হওয়ায় বাগেরহাটের উপকূলীয় পরিবেশে এর ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষকেরা যদি আগাম মৌসুমে এর চাষ করতেন, তবে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ভালো দাম পেতেন। এজন্য চাষিদের সময়মতো বীজ বপন, উন্নত জাত নির্বাচন এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

বিষয় :বাগেরহাট