বিশ্বকাপের বিজ্ঞাপন বিরতিতে কোটি কোটি টাকা আয় বেকহামের

বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক। মাঠে খেলা থেমে যাচ্ছে, দর্শকদের অনেকে বিরক্ত, কোচ-খেলোয়াড়দের মধ্যেও প্রশ্ন আছে। কিন্তু এই বিরতিই আবার সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাজারের জন্য খুলে দিয়েছে নতুন জানালা। সেই বিজ্ঞাপন দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত মুখদের একজন ইংলিশ কিংবদন্তি ডেভিড বেকহাম।
২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে ২২ ও ৬৭ মিনিটে তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক বিরতি রাখা হয়েছে। ফিফা বলছে, উত্তর আমেরিকার গরমে খেলোয়াড়দের সুরক্ষার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। তবে সমালোচকদের দাবি, এই বিরতি ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে দিচ্ছে এবং সম্প্রচারকারীদের জন্য অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের সুযোগ তৈরি করছে।
সেই বিজ্ঞাপন বিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনে বারবার দেখা যাচ্ছে বেকহামকে। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক এখন শুধু সাবেক ফুটবলার নন, বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। বিশ্বকাপের সময় ব্যাংক অব আমেরিকা, লে’স, হোম ডিপো, ম্যাকডোনাল্ডস, স্টেলা আরতোয়া ও অ্যাডিডাসসহ একাধিক বড় প্রতিষ্ঠানের প্রচারে তার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডিং বিশ্লেষকদের হিসাবে, বিশ্বকাপ চলাকালে এসব প্রচারণা থেকে বেকহামের আয় হতে পারে প্রায় ১৯ মিলিয়ন পাউন্ড। ডলারে যা প্রায় ২৫ মিলিয়ন। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটি ৩০০ কোটি টাকার বেশি।
বেকহামের জন্য এটি নতুন কিছু নয়। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার বহু বছর পরও তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বাজারযোগ্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের একজন। তার পরিচিতি শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়; ফ্যাশন, লাইফস্টাইল, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া বাজার এবং বিনোদন জগতেও তার শক্ত অবস্থান আছে।
বিশ্বকাপের যুক্তরাষ্ট্র-কেন্দ্রিক বাজারে সেই পরিচিতিই আরও বেশি কাজে লাগছে। ফুটবল সেখানে দ্রুত বড় হচ্ছে, আর বেকহাম বহু বছর ধরেই আমেরিকান ফুটবল বাজারের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে খেলা থেকে শুরু করে ইন্টার মায়ামির মালিকানায় থাকা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।
ইন্টার মায়ামির কারণেও বেকহামের ব্র্যান্ড মূল্য আরও বেড়েছে। লিওনেল মেসির ক্লাব হওয়ায় ইন্টার মায়ামি এখন বিশ্ব ফুটবলের আলোচনায় নিয়মিত। সেই ক্লাবের অন্যতম মালিক হিসেবে বেকহাম শুধু ফুটবল ব্যবসায়ই নন, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সংস্কৃতির প্রসারেও বড় মুখ হয়ে উঠেছেন।
বেকহামের বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও বড় ভূমিকা রাখে। অ্যাডিডাসের সঙ্গে তার আজীবন চুক্তি বহু বছর ধরেই আলোচিত। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হলেও বিভিন্ন ব্র্যান্ড তার জনপ্রিয়তা ব্যবহার করতে আগ্রহী। কারণ বেকহামের ভাবমূর্তি পরিচ্ছন্ন, বৈশ্বিক এবং সহজে চেনার মতো।
সম্প্রতি সম্পদের হিসাবেও নতুন উচ্চতায় উঠেছেন বেকহাম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের ধনীদের তালিকা অনুযায়ী, স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহামের সঙ্গে তার সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১.১৮৫ বিলিয়ন পাউন্ড। এতে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম বিলিয়নিয়ার ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে আলোচনায় এসেছেন।
হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিতর্ক অবশ্য থামছে না। অনেক সমর্থকের চোখে এটি ফুটবলের ধারাবাহিকতা নষ্ট করছে। কেউ কেউ বলছেন, ফুটবলকে ধীরে ধীরে আমেরিকান খেলাগুলোর মতো বিজ্ঞাপননির্ভর বিরতির কাঠামোয় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফিফা অবশ্য বলছে, সিদ্ধান্তটি বাণিজ্যিক নয়, খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্য।
তবে বাস্তবতা হলো, খেলা থামলে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন চলে। আর সেই বিজ্ঞাপনেই এখন বেকহামের মুখ বারবার দেখা যাচ্ছে। মাঠে তিনি বহু আগেই খেলা ছেড়েছেন, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় তিনি এখনো বড় তারকা।





