জেমস বন্ড হতে চান বেলিংহাম

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
জেমস বন্ড হতে চান বেলিংহাম
বড় পর্দার সবচেয়ে বিখ্যাত স্পাই হতে চান বেলিংহাম। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বড় ভরসা জুড বেলিংহাম। মাঠে গোল করছেন, গোল করাচ্ছেন, দলকে টেনে নিচ্ছেন সামনে। তবে ফুটবলের বাইরে তার আরেকটি স্বপ্নও আছে। সুযোগ পেলে অভিনয়ে নামতে চান রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। আর চরিত্র হিসেবে তার পছন্দ বিখ্যাত ব্রিটিশ গুপ্তচর জেমস বন্ডের চরিত্র।

Advertisement

জেমস কর্ডেনের ওয়ার্ল্ড কাপ আফটার আওয়ারস অনুষ্ঠানে হালকা মেজাজের কথোপকথনে নিজের এই ইচ্ছার কথা জানান বেলিংহাম। ফুটবলের বাইরে কী করতে চান, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি খুব বেশি ভাবেন না। তবে ভাবলে একটি উত্তরই মাথায় আসে, কোনো সিনেমায় কাজ করতে চান তিনি।

এরপর ০০৭ চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বেলিংহাম জানান, জেমস বন্ড তার খুব প্রিয়। শন কনারি থেকে রজার মুর, বন্ড সিরিজের নানা সময়ের ছবিই দেখেছেন তিনি। রসিকতার সুরে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমি জেমস বন্ড হতে চাই। আমি বন্ডকে খুব ভালোবাসি।’

বেলিংহাম অবশ্য নিজের দাবিকে খুব সিরিয়াস করে তোলেননি। বরং মজা করেই জানান, জেমস বন্ড না হলেও বন্ড ছবির পেছনের কোনো দৃশ্যেও থাকতে পারলে খুশি হবেন। পরে কর্ডেনের অনুরোধে তিনি বিখ্যাত সংলাপ, ‘দ্য নেমস বন্ড, জেমস বন্ড’ বলেও শোনান।

এই মন্তব্য দ্রুতই আলোচনায় আসে। কারণ বেলিংহাম এখন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন। বয়স মাত্র ২৩, কিন্তু মাঠে তার উপস্থিতি, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব তাকে দলের মুখে পরিণত করেছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও সেই প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বেলিংহামের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। পরে পানামার বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করে ইংল্যান্ডকে গ্রুপসেরা হতে সাহায্য করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

তবে অভিনয়ের স্বপ্ন আপাতত পাশে রাখতেই হচ্ছে বেলিংহামকে। সামনে ইংল্যান্ডের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ। বুধবার আটলান্টায় ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হবে থমাস টুখেলের দল। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড ফেবারিট হলেও নকআউট মঞ্চে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।

ইংল্যান্ড গ্রুপ জিতেছে, তবে পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নও আছে। কিছু ম্যাচে আক্রমণে ধার কম ছিল। তাই নকআউটে সামনে এগোতে হলে বেলিংহাম, হ্যারি কেইনদের আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউটে উঠে এসেছে, তাদের রক্ষণ ও পাল্টা আক্রমণ ইংল্যান্ডের জন্য পরীক্ষা হতে পারে।

বেলিংহামের চোখ অবশ্য আরও বড় লক্ষ্যে। ইংল্যান্ড শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ১৯৬৬ সালে। এবার সেই ৬০ বছরের অপেক্ষা শেষ করতে চায় তারা। বেলিংহামদের প্রজন্মের সামনে তাই সুযোগ শুধু একটি ট্রফি জেতার নয়, ইংলিশ ফুটবলের দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প বদলে দেওয়ারও।