নকআউটে বিরল প্রত্যাবর্তনের রেকর্ড গড়ল ব্রাজিল

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
নকআউটে বিরল প্রত্যাবর্তনের রেকর্ড গড়ল ব্রাজিল
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের এই নাটকীয় জয় শুধু শেষ ষোলো নিশ্চিত করেনি, বরং হেক্সা জয়ের স্বপ্নও আরও উজ্জ্বল করেছে সেলেসাওদের।

Advertisement

হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২৯তম মিনিটে কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। প্রথমার্ধ শেষে জাপান এগিয়ে থাকায় ২০০৬, ২০১৪ ও ২০১৮ বিশ্বকাপের হতাশাজনক স্মৃতি ফিরে আসতে শুরু করে সমর্থকদের মনে।

তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক ফুটবলে ম্যাচে ফিরতে দেরি হয়নি ব্রাজিলের। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোল ব্রাজিলকে এনে দেয় দারুণ এক জয়।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতল ব্রাজিল।

এর আগে সর্বশেষ এমন কীর্তি গড়েছিল ২০০২ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাইকেল ওয়েনের গোলে পিছিয়ে পড়লেও প্রথমার্ধের শেষদিকে রিভালদো সমতা ফেরান। পরে রোনালদিনহোর দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত সেই আসরেই নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে তারা।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রতিপক্ষ আগে গোল করার পরও ব্রাজিলের জয়ের সংখ্যা এখন ১৪। এর মধ্যে সাতটি এসেছে গ্রুপ পর্বে, আর বাকি সাতটি নকআউট বা পরবর্তী ধাপের ম্যাচে। যদিও এর একটি ছিল ১৯৩৮ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। অর্থাৎ শিরোপার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বে এমন প্রত্যাবর্তনের নজির খুবই বিরল।

মজার বিষয় হলো, ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার মধ্যে দুটি এসেছে ফাইনালে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেন প্রথমে এগিয়ে গেলেও পরে ৫-২ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। চার বছর পর ১৯৬২ সালের ফাইনালেও চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে থেকে ৩-১ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে সেলেসাওরা।

তবে ২০০২ সালের পর নকআউট পর্বে প্রথম গোল হজম করা তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল ব্রাজিল। ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১৪ সালে জার্মানি এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। সেই হতাশার অধ্যায় এবার শেষ হলো জাপানের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে।

এখন ব্রাজিলের সামনে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। সেখানে প্রতিপক্ষ হবে আইভরি কোস্ট ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।

জাপানের বিপক্ষে এই জয় তাই শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়। এটি ব্রাজিলের মানসিক দৃঢ়তা, চাপ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য এবং শিরোপার দাবিদার হিসেবে নিজেদের নতুন করে জানান দেওয়ার বার্তাও। ২৪ বছরের পুরোনো আক্ষেপ ঘোচানোর পর ব্রাজিল সমর্থকদের বিশ্বাস, ২০০২ সালের মতো এবারও কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে? উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের পরবর্তী নকআউট লড়াইগুলোতেই।