সন্তান হারানোর শোক নিয়েই গোল করে কাঁদলেন গাকপো

মরক্কোর বিপক্ষে গোল করার পর স্বাভাবিক উদ্যাপন করেননি নেদারল্যান্ডের স্ট্রাইকার কোডি গাকপো। বল জালে জড়ানোর পর মাটিতে বসে পড়েন লিভারপুলে খেলা এই ডাচ ফরোয়ার্ড। চোখে পানি, মুখ ঢেকে রেখেছিলেন জার্সিতে। কয়েক মুহূর্ত পর সতীর্থরা এসে জড়িয়ে ধরেন তাঁকে।
মুহূর্তটি ছিল শুধু গোলের আনন্দ নয়, গভীর ব্যক্তিগত শোকেরও প্রকাশ। কয়েক দিন আগেই গাকপো ও তার সঙ্গী নোয়া ভ্যান ডার বাই তাদের অনাগত সন্তানকে হারানোর খবর জানান। সেই শোকের মধ্যেই বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থেকে খেলতে নামেন ডাচ ফরোয়ার্ড।
মন্টেরেতে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ৭২ মিনিটে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন গাকপো। ক্রিসেনসিও সামারভিলের কাছ থেকে বল পেয়ে নিচু শটে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করেন তিনি। গোলের পর তার আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
ডাচ দলের সবাই তখন গাকপোর পাশে দাঁড়ান। সতীর্থরা তাকে জড়িয়ে ধরেন। গোলটি শুধু নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেয়নি, গাকপোর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার মধ্যেও এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করে।
গাকপোর সঙ্গী নোয়া ভ্যান ডার বাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তান হারানোর খবর জানিয়েছিলেন। এরপর গাকপোকে ডাচ দলের ক্যাম্প থেকে পরিবারের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি দলের সঙ্গে ফিরে আসেন এবং মরক্কোর বিপক্ষে খেলেন।
ম্যাচের আগে নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমান গাকপোর মানসিক দৃঢ়তার কথা বলেছিলেন। তিনি জানান, খবরটি খুবই দুঃখজনক ছিল এবং খেলোয়াড় ও স্টাফরা গাকপো ও তার পরিবারকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
কোমানের ভাষায়, গাকপো বিষয়টি পরিণতভাবে সামলেছেন। তাকে পরিবারের কাছে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি দলের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ডাচ কোচ এটিও জানান, গাকপো কখনো দল ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেননি।
গাকপোর গোল নেদারল্যান্ডসকে শেষ ষোলোর খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইসা দিওপের হেডে সমতায় ফেরে মরক্কো। অতিরিক্ত সময়েও স্কোর ১-১ থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে ইয়াসিন বোনোরর নায়কত্বে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় ওঠে মরক্কো। গাকপোর আবেগঘন গোল তাই শেষ পর্যন্ত ডাচদের জয়ের গল্প হতে পারেনি। তবে ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও মাঠে নেমে গোল করার মুহূর্তটি বিশ্বকাপের অন্যতম মানবিক দৃশ্য হয়ে থাকবে।






