ঘুষের টাকা নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জিসানুর রহমান। তার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অভিযোগ
সদর উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে জিসানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সুবাদে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান আমাকে বিভিন্ন ইউনিয়নে মৎস্য প্রদর্শনী প্রকল্পের আবেদন করতে বলেন। পরে বাঁশগ্রাম, শেখহাটি, মুলিয়া ও তুলারামপুর ইউনিয়নের নামে চারটি আবেদন করা হয়। এসব প্রকল্পের বরাদ্দ নিশ্চিত করার কথা বলে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের অজুহাতে আমার কাছ থেকে মোট ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়।
‘চারটি আবেদনের মধ্যে শুধু মুলিয়া ইউনিয়নের একটি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাকি তিনটির কোনো বরাদ্দ হয়নি। কৃষকদের কাজ না হওয়ায় তিনি একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলে প্রতিবারই আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। জিসানুরের অভিযোগ, গত ২৮ জুন বিকেলে তিনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে প্রকল্পের তালিকা ও ঘুষের টাকা ফেরত চান। এতে কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং কথোপকথন মোবাইলে ধারণ করতে গেলে তার ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এরপর কার্যালয়ের কর্মচারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার গলার একটি স্বর্ণের চেইনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে জিসানুর রহমান আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। অথচ উল্টো সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
মৎস্য কর্মকর্তার দাবি
নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান এশিয়া পোস্টকে বলেন, জিসান যে অভিযোগগুলো করেছেন, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং তিনিই আমার কার্যালয়ে এসে ভাঙচুর চালিয়েছেন এবং আমাকে মারধর করেছেন। নিজের অপরাধ থেকে রক্ষা পেতেই এখন সংবাদ সম্মেলন করে এসব নাটক সাজাচ্ছেন।
মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান গত ২৮ জুন রাতে বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অফিসকক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।






