কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি

ফায়ার সার্ভিসের রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি মো. সাদিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিখোঁজ হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় স্পিডবোট থেকে নদীতে পড়ে তিনি নিখোঁজ হন।
ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৫টা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এদিন বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার জেটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ সাদিক রাজবাড়ী জেলার কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ শেখের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত একজন ডুবুরি সদস্য হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ফায়ার জেটিতে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণে নিয়মিত কার্যক্রম চলছিল। এ কাজে স্পিডবোটে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডুবুরি সদস্য সাদিক, শামসুল এবং চালক সজল। হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে সাদিক নদীতে পড়ে যান। সহকর্মীরা তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যে তিনি পানির নিচে তলিয়ে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, সকালে আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পল্টনের পাশে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করছিলেন কয়েকজন সদস্য। কাজ চলাকালে একটি জাহাজ পাশ দিয়ে যাওয়ায় নদীতে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। সেই ঢেউয়ের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে পড়ে তিনি পল্টন বা বোটের নিচে আটকে যেতে পারেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমাদের ডুবুরি দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, সাদিক ফায়ার সার্ভিসের একজন অত্যন্ত দক্ষ, সাহসী ও অভিজ্ঞ ডুবুরি। বিভিন্ন দুর্যোগ ও উদ্ধার অভিযানে অসামান্য সাহসিকতা এবং পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় পদক অর্জন করেছেন। তাকে উদ্ধারে আমাদের ডুবুরি দলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম ও সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হচ্ছে, ততক্ষণ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
.png)






