তিস্তার পেটে যাচ্ছে সেতু রক্ষা বাঁধ, ঠেকাতে বরাদ্দ নেই এলজিইডির

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রংপুর
তিস্তার পেটে যাচ্ছে সেতু রক্ষা বাঁধ, ঠেকাতে বরাদ্দ নেই এলজিইডির
শনিবার থেকে ভাঙছে গংগাচড়ার মহিপুরের দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রংপুরের গংগাচড়ার মহিপুরে তিস্তা নদীর পানির চাপ বাড়তেই দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। অনবরত ভাঙনের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বরাদ্দ সংকটে ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

Advertisement

রোববার (২১ জুন) বিকেলে এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি জানান, অর্থবছর শেষ হওয়ায় এবং কোনো বরাদ্দ না থাকায় ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) ডালিয়া পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়। এরপর নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলে গত বছর নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বাঁধের অংশ রক্ষায় এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিং গত শনিবার বেলা ৩টায় প্রথম বন্যার পানিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নতুন করে প্রায় ২০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে।

রোববার দুপুরে সরেজমিনে গঙ্গাচড়া মহিপুর এলাকার দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, প্রবল স্রোতে ক্রমাগত ভেঙে পড়ছে সেতু রক্ষা বাঁধ। ভাঙন শুরুর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ভাঙন রোধে নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট
তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘বাঁশের পাইলিংয়ের কাজ শুরু হওয়ার সময়ই আমরা বলেছিলাম এটি টিকবে না। ওরা আমাদের কথা শুনে নাই। সরকারের ১৪ লাখ টাকা অকারণে খরচ হয়েছে। প্রথম পানির চাপেই পাইলিং ভেঙে গেছে, এখন বাঁধও ভাঙছে। এই ১৪ লাখ টাকায় বাশের পাইলিং না করে জিওব্যাগ ফেললেও বাঁধ ভাঙত না। আমরা দুর্ভাগা। এটা বেওয়ারিশ বাঁধ। গত বছরেও ভাঙছে। এ বছরও ভাঙতেছে।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক নায়েবুজ্জামান নায়েব এশিয়া পোস্টকে বলেন, পরশুদিন রাতে ভারত থেকে আকস্মিকভাবে তিস্তার পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। যার ফলে বেশকিছু জায়গায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে মহিপুরের তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। অনতিবিলম্বে যদি এটার ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে পাশ্ববর্তী লালমনিরহাট সংযোগ সড়ক ও তিস্তা সেতু ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ওখানে আমি ভিজিট করে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে জানিয়েছি। স্যার ঢাকার চিফ স্যার বরাবর বিষয়টি লিখিতভাবে অবগত করেছেন। ঢাকা থেকে একটা বিশেষজ্ঞ টিম চেয়েছেন। যেহেতু এটা পানির ব্যাপার। ঢাকা থেকে আবার বিশেষজ্ঞ টিম আসবে। এর আগে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম এসে আমাদের বাঁশের পাইলিং করার কথা বলেছিল। পরে তো আমরা বাঁশের পাইলিং দিলাম। এবার সেটা তো ভেঙে গেল। এ জন্য আবারও ঢাকা অফিসের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার চিঠি দিয়েছেন। এখন ঢাকা থেকে যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেই মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

বাঁধ অনবরত ভেঙে যাচ্ছে, ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যেহেতু জুন মাসের শেষ। এখন তো কোনো বরাদ্দ নেই। তাই তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ হবে। এ ছাড়া ঢাকা অফিসকে বিষয়টি জানিয়েছে। এখনো ঢাকা অফিস থেকে কোনো নির্দেশনা পায়নি। ঢাকা অফিসের নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :রংপুর