বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলারডুবি, দুই জেলে নিখোঁজ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বরগুনা
বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলারডুবি, দুই জেলে নিখোঁজ
ছবি: সংগৃহীত

নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ১৮ জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ১৬ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম পাইকার ও শহীদ। তারা দুজনই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন খলিল মাস্টার, হৃদয় জোমাদ্দার, দুলাল, ইমরান, ফারুক, আল-আমিন, মনির, আশরাফুল, জামাল, ইমরান, শামিম, নাসির, সাগর, আসিফ, নাসির ও নুরুজ্জামান। তারা সবাই একই ইউনিয়নের বাসিন্দা।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, মঙ্গলবার সকালে তালতলীর ফকিরহাট মৎস্য অবতরণকেন্দ্র থেকে দুটি মাছ ধরার ট্রলার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর মধ্যে তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন ট্রলারে ১৩ জন এবং আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারে পাঁচজন জেলে ছিলেন।

রাতে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে প্রথমে আলমগীর খলিফার ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় ওই ট্রলারের জেলেরা জীবন বাঁচাতে তপন জোমাদ্দারের ট্রলারে আশ্রয় নেন। কিন্তু একপর্যায়ে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে তপন জোমাদ্দারের ট্রলারটিও ডুবে যায়। এরপর সব জেলে সাগরে ভাসতে থাকেন।

পরে রাত ৩টার দিকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে পটুয়াখালীর মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে বাকি দুই জেলের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।

ফকিরহাট মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, গতকাল ১৮ জন জেলেসহ দুটি ট্রলার সাগরে ডুবে যায়। ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য দুই জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি সমিতির পক্ষ থেকেও তাদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তালতলী কোস্ট গার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে এখনও অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের কাছে ১৮ জেলেসহ ট্রলারডুবির তথ্য রয়েছে। তবে ১৬ জন উদ্ধার হওয়ার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাইনি।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলের চিকিৎসার বিষয়ে মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

বিষয় :বরগুনা