ধুমনীঘাটের সৌন্দর্য দেখতে ছুটছে পর্যটক, নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, খাগড়াছড়ি
ধুমনীঘাটের সৌন্দর্য দেখতে ছুটছে পর্যটক, নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি
ছবি : সংগৃহীত

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ধুমনীঘাট বর্ষার শুরুতেই যেন নতুন রূপে সেজেছে। সবুজ পাহাড়, পাথর বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ পানির ঝর্ণা, পাহাড়ি ঝিরি, নাম না জানা বনফুল, পাখির কিচিরমিচির আর নিরিবিলি পরিবেশ মিলিয়ে ধুমনীঘাট এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। তবে পর্যটকদের দাবি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এ এলাকার পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে।

Advertisement

বর্ষায় পাহাড়ি ঝিরি ও ঝর্ণাগুলোতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ধুমনীঘাটের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে আসছেন এই মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ঝর্ণার স্বচ্ছ পানিতে গোসল ও পাহাড়ি পরিবেশে সময় কাটিয়ে পর্যটকরা পাচ্ছেন নতুন এক অভিজ্ঞতা।

কুমিল্লা পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ধুমনীঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। তবে এখানে আসার পাহাড়ি রাস্তা আরও উন্নত করলে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলে ভালো হতো।

চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী সুমি আক্তার বলেন, এখানকার পাহাড়ি পরিবেশ খুবই সুন্দর ও শান্ত। পরিবার নিয়ে ঘুরতে দারুণ লাগছে। যদি বিশ্রামাগার, পরিচ্ছন্ন টয়লেট ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে আরও বেশি পর্যটক আসতেন। এবিষয়ে পর্যটকদের কথা বিবেচনায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানান, মহালছড়ি উপজেলার ধুমনীঘাটসহ অন্যান্য ঝর্ণাগুলোকে আরও পর্যটনবান্ধব করতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

খাগড়াছড়ি মহালছড়ির ধুমনীঘাটে আসতে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম থেকে বাসযোগে জালিয়াপাড়া এসে সেখান থেকে মাহিন্দ্রা, সিএনজি কিংবা মোটরসাইকেলে সহজেই ধুমনীঘাটে পৌঁছানো যায়। এছাড়া খাগড়াছড়ি সদর থেকে মহালছড়ির ২৪ মাইল হয়ে বিভিন্ন পরিবহনে যাতায়াতের সুবিধাও রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন সুশীল সমাজের মতে, খাগড়াছড়িতে পর্যটন খাতে অপার সম্ভাবনা থাকলেও এখনো প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিশ্রামাগার নির্মাণ এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে ধুমনীঘাটসহ জেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলো দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হবে খাগড়াছড়ি।