নওগাঁয় ‘শয়তানের নিশ্বাস’ চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁয় অজ্ঞান পার্টি ও ‘শয়তানের নিশ্বাস’ (রাসায়নিক স্প্রে) প্রয়োগকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) মধ্যরাতে শহরের ৯টি আবাসিক হোটেলে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে প্রতারক চক্রের চার সক্রিয় সদস্য এবং চোরাই স্বর্ণের ক্রেতাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে গলানো স্বর্ণ।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন গাইবান্ধার মো. আব্দুল হাই, মো. এরশাদ আলী ও বাবলু, দিনাজপুরের মো. কালাম এবং নওগাঁর মো. জাহাঙ্গীর।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন নওগাঁ সদর থানা এলাকায় মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের চুড়িপট্টিতে। ৭০ বছর বয়সি ফাতেমা বেগমকে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা বিশেষ রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা লুট করা হয়। এরপর তাকে অচেতন অবস্থায় একটি ময়লা ফেলার স্থানে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন ওই বৃদ্ধা মারা যান।
এর ঠিক আধঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে লিটন ব্রিজের মাঝামাঝি এলাকায় অপর এক বয়স্ক দম্পতি প্রতারণার শিকার হন। চক্রটি তাদের স্বর্ণের বারের লোভ দেখিয়ে এবং রাসায়নিক স্প্রে দিয়ে সম্মোহিত করে জোরপূর্বক ছয় আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেয়।
পরপর দুটি গুরুতর ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ জুন রাতে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল নওগাঁ শহরের ৯টি আবাসিক হোটেলে একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম ঘটনায় জড়িত বাকি অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারসহ বাকি মালামাল উদ্ধারে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






