logo

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩৭, পরীক্ষা ছাড়া পশু জবাই নিষেধ

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৩৭, পরীক্ষা ছাড়া পশু জবাই নিষেধ
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। ছবি : এশিয়া পোস্ট

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩১। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নতুন করে আরও ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান।

অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস বিক্রি বন্ধ করা না গেলে অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধার সিভিল সার্জন। রোগের বিস্তার ঠেকাতে গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। একই সঙ্গে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া গরু জবাই না করার জন্য মাংস বিক্রেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ছড়িয়েছে

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামে গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি অসুস্থ গরু জবাই করে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে মাংস ভাগ করে দেওয়া হয়। ওই গরুর মাংস কাটাকাটির কাজে অংশ নেওয়া কয়েকজনের শরীরে পরে ফোসকা দেখা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষায় তাদের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।

এরপর উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ও তারাপুর ইউনিয়নেও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত আরও দুটি গরু জবাই করা হয়। এই তিনটি ঘটনায় মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেওয়া কয়েকজনের শরীরে জ্বর, মাথাব্যথা ও ফোসকার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাদের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।

সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম ১১ সেপ্টেম্বর অসুস্থ গরুটির মাংস কাটাকাটির কাজে অংশ নিয়েছিলেন। ওই মাংস বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেওয়া কয়েকজনের শরীরে জ্বর, মাথাব্যথা ও ফোসকার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে জানা যায়, গরুটির মাংসের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরাই অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন।

অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত জয়নাল আবেদীন বলেন, তার শরীরে জ্বর, মাথাব্যথা ও ফোসকার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। পরে জানতে পারেন, তিনি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন।

আব্দুল মমিম মিয়া বলেন, সর্বানন্দ ইউনিয়নে কাউকে না জানিয়ে একটি রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস বিক্রি ও খাওয়ার কারণে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত তিনটি গরু জবাই করে মাংস খাওয়ার কারণে ওই তিন ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। অসুস্থ বা সন্দেহজনক পশু জবাই না করা এবং মাংস কাটাকাটির সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে সভা করে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া জবাই না করার জন্য নিষেধ করা হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. মেহেদি হাসান বলেন, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অসুস্থ পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটির ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

গাইবান্ধার জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরুর মাংস না খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। গত বছরও একটি অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস বিক্রির ফলে এ রোগ দেখা দিয়েছিল। সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল। এ বছরও বিভিন্ন গ্রামে রোগাক্রান্ত গরু জবাই ও মাংস বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) একটি দলসহ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগটি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্প করা হবে।

এর আগে, গত বছরের ৫ অক্টোবর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোজিনা বেগম (৪৫) নামের এক নারী মারা যান।

এ ছাড়া গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের একটি রোগাক্রান্ত গরু জবাই করা হয়। মাংস কাটাকাটির কাজে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় ১১ জন। চার দিন পর, ২ অক্টোবর, তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা দেখা দেয় ও পচন ধরে। বিশেষ করে হাত, নাক, মুখ ও চোখে এসব উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডেও অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ছয়জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন।