মেশিনের ওপর শুয়েই টেকনিশিয়ান বললেন, ‘বুকের সিটি স্ক্যান পারি না’

৭৫ বছর বয়সি অসুস্থ মো. তোফায়েলকে নিয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান স্বজনেরা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার বুকের সিটি স্ক্যান করাতে হবে। রোগীকে নিয়ে হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের সিটি স্ক্যান কক্ষে গিয়ে স্বজনেরা দেখেন, মেশিনের ওপর শুয়ে আছেন এক টেকনিশিয়ান। পরীক্ষা করার কথা বললে মেশিনের ওপর শোয়া অবস্থায়ই তিনি জানান, বুকের সিটি স্ক্যান করতে পারেন না তিনি।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়। অভিযুক্ত সিনিয়র টেকনিশিয়ান মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৩ অক্টোবর) বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে। রোগীর স্বজন মো. আব্দুল হামিদ শনিবার বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, সিটি স্ক্যান কক্ষের কর্মকর্তা মেশিনের ওপর বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং বুকের সিটি স্ক্যান করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। এরপরই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে একই ব্যক্তি আরেকটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার ৭৫ বছর বয়সি বাবা তোফায়েলের বুকের সিটি স্ক্যান করেছে।
আব্দুল হামিদ তার দ্বিতীয় ভিডিওতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগের দিন প্রতিবাদ করার পরদিন তাদের সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে এবং খুব যত্নসহকারে চেস্ট সিটি স্ক্যান করা হয়েছে।
হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের ইনচার্জ এবং সিনিয়র টেকনোলজিস্ট শাহ জালাল শাহিন বলেন, ঘটনাটি শনিবারের। বুকের সিটি স্ক্যান করতে হলে চিকিৎসকের অনুমতি প্রয়োজন। রোগীর স্বজন সেই অনুমতি না নিয়েই পরীক্ষা করতে এসেছিলেন। পরে রোববার সকালে চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে আসার পর তার বুকের সিটি স্ক্যান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিটি স্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে থাকা ব্যক্তি মো. ইসমাইল হোসেন, তিনি সিনিয়র টেকনিশিয়ান। রোগীর স্বজনদের বিষয়টি বুঝিয়ে বললেই ঘটনা এত দূর গড়াত না। তবে মেশিনের ওপর শুয়ে থাকাটাও ঠিক হয়নি।
হাসপাতালের মুখপাত্র ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. মাজাহারুল রেজওয়ান রেজা বলেন, হাসপাতালে মূলত মাথার সিটি স্ক্যান করা হয়। বুকের এইচআরসিটি করা হয় না। বুকের সিটি স্ক্যান করলে মেশিনে অতিরিক্ত লোড পড়তে পারে এবং এতে মেশিন বিকল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মৌখিকভাবে শুধু মাথার সিটি স্ক্যান করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে সিটি স্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে থাকার বিষয়টি অপরাধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সিটি স্ক্যান কক্ষ ঘুমানোর জায়গা নয়। ওই টেকনিশিয়ান অপরাধ করেছেন। তাকে আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। এর আগেই প্রাথমিকভাবে তার বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
