খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সহায়তা, আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে খুলনার রূপসা উপজেলার পালেরহাট মাঠে ‘বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা ও পেশাগত স্বীকৃতির আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে যুক্ত করে মোট ৫০০ জনকে এই সুবিধা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই খেলাধুলা একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। একজন বাবা-মা যেমন সন্তানকে ডাক্তার বা প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তেমনি খেলোয়াড় হিসেবেও গড়ে ওঠার স্বপ্ন দেখবেন। সেই পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।
মো. আমিনুল হক জানান, সরকারের ‘নতুন করে স্পোর্টস’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজারের বেশি কিশোর-কিশোরী। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরু হবে এবং ২৭ জুলাই সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে।
তিনি আরও জানান, এসব প্রতিযোগিতা থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। সেখানে তাদের লেখাপড়া ও প্রশিক্ষণের সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে। পাশাপাশি খুলনায় অবস্থিত বিকেএসপিকেও আরও আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি জাতীয় কমিটি মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কারে কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ এবং পুরোনো মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের আট বিভাগ ও দুটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে মোট ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্পোর্টস ভিলেজে আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি, শুটিংসহ আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত আট বিঘা জমি নির্ধারণ করা গেলে সেখানে খেলার মাঠ নির্মাণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পালেরহাট মাঠকেও ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলাই তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও অতিরিক্ত মোবাইলনির্ভরতা থেকে দূরে রাখতে পারে। একটি সুস্থ, সচেতন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এজন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মনিরুল হাসান বাপ্পি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, সাবেক সদস্যসচিব আবু হোসেন বাবু এবং বিসিবির সাবেক পরিচালক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৈহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে পরিবেশন করে। এ ছাড়া মধুপুর ঢালী দলের সদস্যরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা প্রদর্শন করেন। পরে প্রধান অতিথি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।




